চারিদিকে উত্সবের আমেজ। শুধু বগুড়া নয়, আশেপাশের জেলাগুলো থেকেও হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটেছে ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে। অনেকে নিজের আত্মীয়-স্বজনকে দাওয়াত করে নিয়ে এসেছেন। সবাই এসেছেন ইতিহাসের এই পীঠস্থানে হাজার হাজার বছরের আনন্দ-বেদনার কাহিনীকে মঞ্চের আলোয় অবলোকন করতে।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রায় দশ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে বগুড়ার মহাস্থানগড়ে মঞ্চস্থ হলো তিন শতাধিক কলাকুশলীর অক্লান্ত পরিশ্রমে নির্মিত প্রত্ননাটক ‘মহাস্থান’। শিল্পকলা একডেমি প্রযোজিত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এই প্রত্ননাটকটি রচনা করেছেন ড. সেলিম মোজাহার এবং নির্দেশনা দিয়েছেন নাট্যজন ও একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।
হেমন্তের হিমেল সন্ধ্যায় খোলা আকাশের নিচে ছিল উদ্বোধনী আয়োজন। নাটকটির উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি সচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক। লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন নাট্যব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান, বিশিষ্ট নাট্যজন অধ্যাপক আবদুস সেলিম, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলতাফ হোসেন, বগুড়ার জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ ও জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজীউর রহমান।
হাসান আজিজুল হক বলেন, ‘এই মহাস্থানে তিন সভ্যাতার মিলন ঘটেছে। বাঙালির পরিচয় উঠে এসেছে এখান থেকে। আমাদের শিল্প-সাহিত্যের নিদর্শন এখানে রয়েছে; দেশের জ্ঞানী-গুণীজন এসেছিলেন এ পীঠস্থানে।’
আড়াই হাজার বছরের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে প্রত্ননাটক ‘মহাস্থান’। নাটকে আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাসকে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। মহাস্থানগড়ের প্রাচীন ইতিহাসের সঙ্গে সময়ের পরম্পরায় বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম পর্যন্ত সময়কালকে একক গ্রন্থনায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তুলে ধরা হয়েছে বিভিন্ন সময়ের শাসন-শোষণের চিত্র।
এই আয়োজনটি ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত। ঢাকাসহ সারাদেশ থেকে শিল্পী, সংগঠক, গণমাধ্যমকর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উদ্বোধনী মঞ্চায়নে উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ইতোপূর্বে নওগাঁর পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার এবং নরসিংদীর উয়ারি-বটেশ্বর স্থাপনা নিয়ে এরকম দুইটি প্রত্ননাটক মঞ্চস্থ করেছে।
