আসন্ন ঈদের সাত দিন আগে থেকে বাসের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। ঈদ পরবর্তী তিনদিন পর্যন্ত স্পেশাল সার্ভিস চলবে। ঈদের সময় সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বাড়তি ভাড়া আদায় করতে দেওয়া হবে না। ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপত্তা ও যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে সড়কে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও নিয়োজিত থাকবে। গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর কমলাপুর বাস ডিপোতে আসন্ন রমজানের ঈদে বিআরটিসি’র সেবার মান বৃদ্ধি বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এ সব তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
মন্ত্রী বলেন, আসন্ন রমজানের ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করতে বিআরটিসি’র ৯শ’ বাস প্রস্তুত থাকবে। আর এই নয়শ’ বাসের পাশাপাশি তাত্ক্ষণিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় মহাখালী, গাবতলী, যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ টার্মিনালে পঞ্চাশটি বাস প্রস্তুত রাখা হবে। যাত্রীসেবা প্রদানের বিষয়াদি তদারক করতে খোলা হবে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। ৯শ’ বাসের মধ্যে ৪৬৬টি বাস জেলা-উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত যাবে। এছাড়া আগামী ২২ জুন থেকে এসব বাস ‘ঈদ স্পেশাল সার্ভিস’ হিসেবে চলাচল শুরু করবে। পাশাপাশি ঈদে যানজট প্রবণ এলাকায় আনসার সদস্য নিয়োগ করা হবে বলেও তিনি জানান ।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ঈদের সময়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে বিআরটিসি’র তিনটি মনিটরিং টিম রাখা হবে। এছাড়া সড়কে যানবাহনের কোনো প্রকার সমস্যা হলে তাত্ক্ষণিকভাবে মেরামতের জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট চারটি কারিগরি টিম টাঙ্গাইল, বগুড়া, রংপুর এবং কাঁচপুর ব্রিজ এলাকায় স্ট্যান্ডবাই রাখা হবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, অনেক সময় দেখা যায় কাউন্টারের গাড়ি ঠিকমতোই ভাড়া নিচ্ছে। আবার কাউন্টার থেকে দূরে গিয়ে আরেক রকম ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এটা আমার চোখেও পড়েছে। কাজেই এই প্র্যাকটিস যদি এবার কোথাও ঘটে তাহলে শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। ঈদে কার কী দায়িত্ব তা উল্লেখ করে ইতিমধ্যে সার্কুলার জারি করা হয়েছে বলে তিনি জানান। মতবিনিময় সভায় বিআরটিসির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স এসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট শ্যামলী পরিবহনের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর রমেশ চন্দ্র ঘোষ ইত্তেফাককে বলেন, অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে সংগঠনের পক্ষ থেকে এবার বাসের আগাম টিকিট বিক্রির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি আমরা শুরু করেছি। সাত দিন আগে থেকেই টিকিট বিক্রি করা হবে। তিনি আরও বলেন, এখন তো অনেক পরিবহন অনলাইনে টিকিট বিক্রি করছেন। ফলে টিকিট প্রাপ্তিতে কোনো সমস্যা হবে না আশা করা যাচ্ছে।
ইত্তেফাক/কেকে
