খুলনায় ৯ পাটকলে আড়াই কোটি টাকার লোকসান!

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৩৭

শ্রমিক ধর্মঘট চলতে থাকলে লোকসানের পরিমাণ বাড়ার আশঙ্কা

এনামুল হক, খুলনা অফিস

শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে গত তিন দিনে খুলনা অঞ্চলের নয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত জুটমিলে আড়াই কোটি টাকার লোকসান হয়েছে। শ্রমিকদের ধর্মঘট অব্যাহত থাকলে লোকসানের পরিমাণ আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে সমস্যা সমাধানে পাটকল শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে বিজেএমসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

বকেয়া মজুরি প্রদান ও মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবিতে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি জুটমিলের ৩৩ হাজার শ্রমিক মিলগুলোতে উত্পাদন বন্ধ রেখে গত ১ এপ্রিল থেকে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে। শ্রমিকদের এ আন্দোলনের কারণে খালিশপুর শিল্পাঞ্চলসহ জুটমিলগুলোতে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) সূত্র জানায়, খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি জুটমিলের শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের ৬৪টি সপ্তাহের বেতন ও মজুরি ৪৪ কোটি ২০ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র শ্রমিকদের মজুরি বকেয়া রয়েছে ৩১ কোটি ১৮ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। এছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিন মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে ১২ কোটি ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।

সূত্র জানায়, আলীম, কার্পেটিং, খালিশপুর ও দৌলতপুর জুটমিলের ৬ সপ্তাহ এবং ক্রিসেন্ট, ইস্টার্ন, প্লাটিনাম, স্টার ও জেজেআই জুটমিলের শ্রমিকদের ৮ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। এসব জুটমিলে স্থায়ী ১৪ হাজার ৫২৫ জন, অস্থায়ী ১৮ হাজার ৫২২ জন ও বদলি শ্রমিকসহ ৩৩ হাজার ৪৭ জন শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন।

খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি জুটমিলের প্রতিদিনের উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২৭২ মেট্রিক টন। সেখানে উত্পাদন হচ্ছে ১০০ দশমিক ২৯ মেট্রিক টন। প্রতিদিনের উত্পাদিত এই ১০০ দশমিক ২৯ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্যের বাজার মূল্য ৮০ লাখ টাকা থেকে ৮৫ লাখ টাকা। এদিকে, গত তিন দিনের শ্রমিক ধর্মঘটে ৯টি জুটমিলে আড়াই কোটি টাকার লোকসান হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবারও শ্রমিকদের ধর্মঘটের কর্মসূচি রয়েছে।

গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ৯টি জুটমিলের মধ্যে আলীমে মাত্র ৩ হাজার ১ কুইন্টাল, কার্পেটিংয়ে ২ হাজার ৬৩৫ কুইন্টাল, ক্রিসেন্টে ১২ হাজার ২২ কুইন্টাল, দৌলতপুরে ২ হাজার ৩৫৪ কুইন্টাল, ইস্টার্নে ১ হাজার ৭৩৪ কুইন্টাল, খালিশপুরে ১২ হাজার ১২২ কুইন্টাল, প্লাটিনামে ৭ হাজার ৭৯৩ কুইন্টাল, স্টারে ২ হাজার ৩৮১ কুইন্টাল ও জেজেআইতে ৬ হাজার ১৫৯ কুইন্টাল কাঁচা পাট মজুদ রয়েছে। এই জুটমিলগুলোতে গত বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত পাটক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৭ লাখ ৪৮ হাজার ৫৯৬ কুইন্টাল। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার এই জুটমিলগুলোতে মাত্র ২০০ কুইন্টাল কাঁচাপাট আমদানি করা হয়েছে।

অপরদিকে, ওই মিলগুলোতে ১ এপ্রিল পর্যন্ত ৩২ হাজার ৬৬০ মেট্রিক টন হেসিয়ান, সেকিং, সিবিসি ও ইয়ার্ন মজুদ রয়েছে।