রাজধানীর কদমতলীতে শ্যালিকার হাতে দুলাভাই খুন হয়েছেন। শুক্রবার সকালে কদমতলীর মুক্তধারা এলাকায় চারতলা বাড়ির নীচতলার ফ্ল্যাটে সেলাই রেঞ্জ দিয়ে মাথায় আঘাত করে দুলাভাই জামাল খন্দকারকে (৪০) খুন করে। ঘটনার পর ঐ বাড়ির বাসিন্দারা শ্যালিকা মিতু আক্তারকে (১৭) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। অপরদিকে, ভাটারায় স্ত্রী স্বামীকে হত্যা করে পালিয়েছেন। শুক্রবার বিকালে ভাটারার ঐ বাড়ি থেকে লিটনের (৩০) গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে স্ত্রী মিতু পলাতক রয়েছেন।
কদমতলী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী জানান, নিহত জামাল খন্দকার পেশায় একজন ইলেকট্রিশিয়ান। মুক্তধারা এলাকার চারতলা বাড়ির নীচতলায় তিনি তার স্ত্রী, দুই মেয়ে ও শ্যালিকা মিতু আক্তারকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন। খুনের ঘটনার পর আটক মিতু আক্তার পুলিশকে জানায়, ৩ বছর আগে থেকে তার দুলাভাইয়ের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মিতু মাদারীপুরের একটি মাদ্রাসা থেকে এ বছর দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুলাভাই তাকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার কারণে সে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেননি। গত মাসে মিতু তার দুলাভাইকে বিয়ের চাপ দিতে থাকেন। পরে সে তার বোন শারমিন আক্তারকে বিষয়টি জানিয়ে দেয়। এ নিয়ে তার বোনের সংসার জীবনে কলহ চলতে থাকে। ঘটনার এক সপ্তাহ আগে দুলাভাই তার বোনকে (স্ত্রী) ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো শুরু করেন। এতে সে প্রতিরাতে দুলাভাইয়ের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক করেন। বোনকে বিষয়টি বলে দেয়ায় দুলাভাই ক্ষুব্ধ হন। শুক্রবার সকালে এ নিয়ে পারিবারিক শালিস বৈঠক হবে। বৈঠকে বাড়ির মালিক ও তার স্ত্রী এবং পাশের দুই ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা থাকার কথা। সকাল ১০ টার দিকে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে তার বোন বাড়ির তিন তলায় মালিক ও তার স্ত্রীকে ডাকতে যান। এসময় দুলাভাইয়ের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ঘরে থাকা সেলাই রেঞ্জ দিয়ে দুলাভাইয়ের মাথায় আঘাত করেন। পরে মোবাইল ফোনের চার্জারের তার গলায় পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে সে।
ঘটনার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।
ভাটারা থানার ওসি নূরুল মোত্তাকিন বলেন, নূরেরচালা এলাকার একটি চার তলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে লিটন (৩০) নামে এক ব্যক্তির গলিত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই তার স্ত্রী মিতু পলাতক রয়েছেন। শুক্রবার বিকালে ঐ বাড়ির বাসিন্দারা একটি কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশের খবর দেয়। পুলিশ গিয়ে কক্ষের দরজা ভেঙ্গে গলিত লাশ উদ্ধার করে। বাড়ির মালিক পুলিশকে জানান যে লিটন নামে এক ব্যক্তি নিজেকে মোটরসাইকেল মেকানিক পরিচয় দিয়ে স্বামী-স্ত্রী বসবাস করবেন বলেন কয়েক মাস আগে একটি কক্ষ ভাড়া নেন। ২/৩ দিন আগে থেকে ঐ কক্ষের দরজায় তালা ঝুলানো দেখতে পান। ধারণা করা হচ্ছে যে, এই হত্যার সঙ্গে মিতু জড়িত থাকতে পারেন। তবে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত রহস্য জানা যাবে।
ইত্তেফাক/সিপু/এমআই
