বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের হঠাত্ তাণ্ডব

আপডেট : ২৭ মে ২০১৭, ২৩:১৭

স্থানীয় সমাজ সেবকের সামনে ধূমপান করতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় কমপক্ষে ১২ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কর্নকাঠি ও চরআইচা এলাকার প্রায় অর্ধশত দোকান ও বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে ছাত্ররা। তারা বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে প্রায় ৩০টি যানবাহনেও হামলা চালিয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, ছাত্ররা দোকান ভাংচুর করে মালামাল ও নগদ টাকা লুট করে নিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। নগরীর দপদপিয়া সেতু সংলগ্ন কর্ণকাঠীতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকার চায়ের দোকানী সেলিম হাওলাদার জানান, রাত ৯টার দিকে স্থানীয় সমাজসেবক সুরুজ মোল্লার সামনে বসে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ছাত্র ধূমপান করছিলো। স্থানীয় যুবক জয় এ দৃশ্য দেখে তাদেরকে অন্যস্থানে গিয়ে ধূমপান করতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জয়ের উপর চড়াও হয় ধূমপানরত শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে তারা ক্যাম্পাসের হলে অবস্থানকারী অন্য শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে খবর দিয়েই সেলিমের দোকানে হামলা শুরু করে।

অতি অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল থেকে আরও শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্যাম্পাস সংলগ্ন দোকানগুলোতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুরসহ নগদ অর্থ ও মূল্যবান মালামাল লুটপাট করে নেয় বলে অভিযোগ করেন দোকানীরা।

স্থানীয় মোবাইল রিচার্জের দোকানী মহসিন মোল্লা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা আমাদের দোকান ভাংচুরের সময় একটি কালো রঙের ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ করে দোকানগুলো থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন লুট করে নেয়।’ মুদি দোকানী আমিনুল ইসলাম সবুজ হাওলাদার অভিযোগ করেন, তার দোকান ভাংচুর করে দশ হাজার টাকা লুট করা হয়েছে। তিনি জানান, তার দোকানের সামনে সৈয়দ মেডিকেল হল ও মোল্লা মেডিকেল হল নামের দুটি ওষুধের দোকান ভাংচুর করে সেখান থেকে সব ওষুধ লুট করা হয়েছে। এ সময় স্থানীয়দের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট পাটকেলের আঘাতে উভয়পক্ষের ১২ জন আহত হয়। এদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীকে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ৮ গ্রামবাসীকে প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে।  ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়ক অবরোধ করে ছাত্ররা গাড়ি ভাংচুর করে। এ ভাংচুরের দৃশ্য ক্যামেরায় ধারন করতে গেলে শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের উপরও চড়াও হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান তৃতীয় বর্ষের আহত ছাত্র আল আমিন অভিযোগ করেন, কর্নকাঠি এলাকার বখাটে রাজু দীর্ঘদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের উত্যক্ত করে আসছিলো। এছাড়া ক্যাম্পাসে সে মাদক বিক্রি ও সেবন করতো। এনিয়ে দীর্ঘদিন থেকে তাদের সঙ্গে রাজুর দ্বন্দ্ব চলে আসছিলো। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে আল-আমিনসহ ১০/১২ জন ছাত্র ভার্সিটির সামনে একটি দোকনে চা পান করার সময় স্থানীয় বখাটে জয়, বাপ্পি ও আশিক তাদেরকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। কিন্ত তারা দোকান থেকে না যাওয়ায় রাজু ও তার সহযোগীরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। পরে ভার্সিটির সামনে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিলে হলের বিক্ষুদ্ধ ছাত্ররা তাদের প্রতিহত করে। এ হামলার প্রতিবাদ জানাতেই তারা মহাসড়ক অবরোধ করেছিল বলে আল আমিন জানায়।

পুরো ধাওয়া -পাল্টা ধাওয়ার সময় সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয় ফাঁড়ির পুলিশ অসহায় হয়ে পড়েছিল। নৌ-বন্দর থানা পুলিশ এসেও পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়। পরে উপ-পুলিশ কমিশনার (সাউথ) আব্দুর রউফ-এর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গিয়ে রাত ১১ টার দিকে  মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে।

এর আগে প্রায় দুই ঘন্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় যাতায়াতকারী শত শত যানবাহনের যাত্রীকে অবর্ননীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সাউথ) সফিউল্লাহ মোঃ নাসির জানান, তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। পুনরায় যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য ক্যাম্পাস ও আশেপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, রাতের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কেউ মামলা দায়ের করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতরাতে বিএমপি’র মুখপাত্র নাসির উদ্দিন মল্লিক ইত্তেফাককে জানান, এ ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত  কেউ কোন মামলা দায়ের করেনি।

ইত্তেফাক/নূহু