‘পরাজিত শক্তির সঙ্গে আপোষ করে নির্বাচনে জেতা যায় না’

আপডেট : ২৮ মে ২০১৭, ০০:১৭

ভাস্কর্য অপসারণে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেছেন, রাজনীতি এখন আর গণমানুষের মুক্তির কথা বলে না। এ কারণেই শুধু ক্ষমতার সমীকরণে ভাস্কর্য অপসারণের মতো ঘটনা ঘটছে। সরকারকে বুঝতে হবে পরাজিত শক্তির সঙ্গে আপস করে নির্বাচন জেতা যায় না। এসবের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভাস্কর্য পুনঃস্থাপনের দাবিতে আগামী ৩ জুন শনিবার প্রতিবাদ দিবস পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

গতকাল শনিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জোটের সভায় এসব কথা বলা হয়। সেইসঙ্গে ভাস্কর্য অপসারণের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ৩ জুনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ওই দিন বেলা ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। একইভাবে সকল জেলা ও উপজেলায় এ কর্মসূচি পালন করা হবে।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, নাট্যজন আতাউর রহমান, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ, নৃত্যশিল্পী সংস্থার উপদেষ্টা আমানুল হক, জোট সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, পথনাটক পরিষদের সভাপতি মান্নান হীরা ও সাধারণ সম্পাদক আহম্মেদ গিয়াস, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল আখতারুজ্জামান, অভিনয় শিল্পী সংঘের সভাপতি শহীদুল ইসলাম সাচ্চু, চারুশিল্পী সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল পাশা চৌধুরী প্রমুখ।

সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, ‘সংগ্রামে নামতে হবে। আমাদের সেই প্রস্তুতি নিতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট থেকে স্থাপত্য অপসারণ করা হয়নি, আমাদের চেতনার অপসারণ করা হয়েছে। সরকারি দল ও বিরোধী দল সবাই যখন এ ভাস্কর্য অপসারণের পক্ষে, তবে কেন রাতের অন্ধকারে এ ভাস্কর্য অপসারণ করতে হবে? এতেই বোঝা যায়, সংস্কৃতিকর্মী তথা দেশের জনগণকে তারা ভয় পায়।

নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, রাজনীতি এখন আর গণমানুষের মুক্তির কথা বলে না। এ কারণেই শুধু ক্ষমতার সমীকরণে যে ঘটনা ঘটা উচিত, সেটিই ঘটছে। এটি মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী একটি দলের কাছ থেকে আশা করা যায় না। কিন্তু আমাদের তাই দেখতে হচ্ছে। কৌশলের কথা বলা হচ্ছে, সেটা অপকৌশলও হতে পারে।’

হাসান আরিফ বলেন, ‘উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ভাস্কর্যকে মূর্তি বলে বেড়াচ্ছে এবং সেটা মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হতে থাকে। হেফাজতের নির্দেশে পাঠ্যপুস্তক থেকে অসাম্প্রদায়িক লেখকদের লেখা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা তা মানি না, মানবো না।’

ইত্তেফাক/নূহু