দাউদ বিশ্বাসের তালবন

আপডেট : ২৮ মে ২০১৭, ০২:১৫

"তাল গাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে সব গাছ ছাড়িয়ে উঁকি মারে আকাশে", "আমি মেলা থেকে তালপাতার এক বাঁশি কিনে এনেছি" কিংবা "তিল থেকে তাল হয়" এর মতো সমাজে নানা ধরনের কথার প্রচলন আছে তাল গাছকে নিয়ে।

আর নিরবে-নিঃশব্দে অর্ধশতাব্দির বেশিকাল আগে থেকে অগণিত সেই পরিবেশ বান্ধব তালগাছ লাগিয়ে কিংবদন্তির তালিকায় নাম লিখিয়েছেন হাজী দাউদ বিশ্বাস নামের এক ব্যাক্তি।

তালজনক দাউদ বিশ্বাস চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার, হাটবোয়ালী ইউনিয়নের বদ্যিনাথপুর গ্রামের মৃত শওকত আলী মিয়ার ছেলে। শওকত বিশ্বাসের ৭ ছেলে ও ২ মেয়ের মধ্যে সবার ছোট দাউদ বিশ্বাস।

দারিদ্রের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেড়ে ওঠা দাউদ বিশ্বাস ছোট বেলায় বাড়ি ছেড়ে বগুড়ায় লজিং থেকে পড়ালেখা শুরু করনে। সেখানে থাকার সময় তার বিভিন্ন ফলদ ও বনজ বৃক্ষের বাগান ছাড়াও ব্যাতিক্রমী তালগাছ লাগানোর প্রতি বিশেষ দুর্বলতা তৈরি হয়। বগুড়ায় লেখাপড়া শেষ না করেই তিনি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের কাকিলাদহ গ্রামের প্রতাপশালী আলী মুন্সির মেয়েকে বিয়ে করে ঘরজামাই থেকে যান।

নিজের দুরদর্শী চিন্তাশক্তি আর শ্বশুরবাড়ির সহায়তায় তিনি জমি ক্রয়, ক্রয়কৃত জমিতে কৃষিকাজ, পাশাপাশি তহশীল অফিসের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে হয়ে যান কয়েকশত বিঘা জমির মালিক। আর তার কাকিলাদহের এই জমিতেই তিল তিল করে গড়ে তোলেন তার সুবিশাল তাল বাগান।

আজ থেকে ৩২ বছর আগে ১৯৮৫ সালে ৯০ বছর বয়সে তাল বাগানের জনক আলহাজ দাউদ বিশ্বাস মারা যান।

মৃত্যুকালে তিনি দুই স্ত্রী,৭ ছেলে ও ৩ মেয়ে রেখে যান।

অত্র এলাকায় জনশ্রুতি আছে তিনি মারা যাবার দিন সকালেও বেশ কয়েকটি তালের বীজ নিজ জমির আইলে রোপন করেন। সে সময় হঠাৎ বুকে ব্যাথা উঠলে বাড়িতে চলে আসেন। পরে তিনি মারা যান।

তাল জনক দাউদ বিশ্বাস মারা যাবার আগ পর্যন্ত তাঁর প্রায় ৩শ বিঘা জমিতে ৫ হাজার তালগাছ লাগিয়ে যান।

তালগাছ শুধু পরিবেশ বান্ধব বৃক্ষই নয়, তালের কোন কিছুই ফেলনা নয়। তালগাছ বজ্রপাত প্রতিরোধ করে, তালের কাঠ দিয়ে ঘরের আড়া, খুটি হয়। তালের রস সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর, তালশাস, তালের খাজা, তালমিশ্রি, তালপাখা, তালের পিঠা, তালপাতার বাঁশি, তালগাছের আশ দিয়ে মাছ ধরার বিত্তি ও তালের টুপি বানানো হয়।

সঠিক করে বলা না গেলেও অনেকেই ধারনা করেন, দাউদ বিশ্বাসের তালগাছের বাগান বাংলাদেশের সর্ববৃহত বাগান।

ইত্তেফাক/নূহু