অধিকাংশ ক্রেন ও ফর্কলিফট অকেজো স্থবির হয়ে পড়েছে বেনাপোল বন্দর

আপডেট : ৩০ মে ২০১৭, ০২:১০

বেনাপোল স্থলবন্দরের অধিকাংশ ক্রেন ও ফর্কলিফট অকেজো হওয়ায়  স্থবির হয়ে পড়েছে বেনাপোল বন্দরের মালামাল খালাসের কাজ। আমদানীকারকরা সময়মতো পণ্য খালাস করতে না পারায় দেশের বৃহত্তম বন্দরটিতে সৃষ্টি হয়েছে পণ্যজট।

বন্দরের গুদাম থেকে পণ্য বের করার পর নতুন পণ্য ঢোকাতে হচ্ছে। জায়গার এ সংকটের কারণে পণ্য বোঝাই ট্রাক বন্দরের অভ্যন্তরে দাঁড়িয়ে থাকছে দিনের পর দিন। ট্রাক থেকে পণ্য নামানোর অনুমতি মিললেও  ক্রেন মিলছে না। ফলে জায়গা ও ক্রেন সংকটে বিপাকে পড়েছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। বন্দর ব্যবহারকারীদের মেশিনারিসহ ভারি মালামাল লোড আনলোডের সময় দিনের পর দিন অপেক্ষা করে থাকতে হয় সিরিয়াল দিয়ে।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, শিল্প-কলকারখানা, গার্মেন্টসহ বিভিন্ন প্রকল্পের  বেশিরভাগ মেশিনারিজ আমদানি হয় বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে। ক্রেন ও ফর্কলিফট ছাড়া এ জাতীয় পণ্য বন্দরে আনলোড ও বন্দর থেকে খালাস নেয়া সম্ভব না। মংলা বন্দর থেকে ২০০২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বেনাপোল বন্দরকে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সে সময়কার অনেক পুরনো ক্রেন ও ফর্কলিফট মংলা বন্দর থেকে ভাড়া করে এনে এই বন্দরের কাজ চালানো হতো। ২০১০ সালের ২১ মার্চ বেনাপোল স্থলবন্দরের পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঢাকার মহাখালীর মেসার্স এসআইএস (সীস) লজিস্টিক্যাল সিস্টেমের (জেভি) পাঁচ বছর মেয়াদি চুক্তি হয়। সে বছরের ১ আগস্ট থেকে তারা বেনাপোল স্থলবন্দরে বেসরকারি কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পায়। তারা ১৬টি ফর্কলিফট ও পাঁচটি ক্রেন দিয়ে বন্দরের মালামাল ওঠানো-নামানোর কাজ শুরু করে। ওই বছরের ১০ নভেম্বর আরো ছয়টি নতুন ফর্কলিফট নিয়ে আসে কোম্পানিটি।

কিছুদিন কাজ করার পর এসব ফর্কলিফট ও ক্রেন অকেজো হওয়া শুরু হয়। কিন্তু এগুলো মেরামতের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। চুক্তি অনুযায়ী পাঁচটি ক্রেন দিয়ে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ করার কথা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তিনটি ক্রেন অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এ বিষয়ে এক মাস আগে চিঠি দেয়া হলেও কোনো পদক্ষেপ নেননি স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের ঢাকা অফিসের কর্তারা।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বেনাপোল প্রতিনিধি হাফিজুর রহমান জানান, ইঞ্জিনের বিষয় তো, মাঝে-মধ্যে সমস্যা হতেই পারে। আমরা সব ক্রেন ঠিক করে দিচ্ছি।

ইত্তেফাক/নূহু