ইহার শেষ কোথায়?

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৫২

বহুকাঙ্ক্ষিত ডাকসু নির্বাচনের পরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতার অবসান হইতেছে না। দীর্ঘদিন পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে ইহা লইয়া সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে  অনেক প্রত্যাশা তৈরি হইয়াছিল। যদিও নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের দিন ও পরে ইহা লইয়া বিভিন্ন প্রশ্ন দেখা দেয়, তথাপি ডাকসুর ভিপি হিসাবে নূরুল হকের দায়িত্ব গ্রহণের পর সবকিছু স্বাভাবিক হইয়া যাইবে বলিয়া আশা করা হইয়াছিল। কিন্তু গতকাল এসএম হলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হইতে শুরু করিয়াছে। এসএম হল সংসদ নির্বাচনে জিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন ফরিদ হাসান। তাহাকে গত সোমবার রাত্রে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা পিটাইয়া হল হইতে বাহির করিয়া দিয়াছে বলিয়া অভিযোগ উঠে। ইহার প্রতিবাদে ডাকসুর ভিপি হলটির প্রাধ্যক্ষের নিকট অভিযোগনামা দিতে গেলে তাহাকে দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করিয়া রাখা হয়। পরে সেখান হইতে বাহির হইয়া আসিবার সময় তাহার উপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়। এমনকি সেই ডিম হল প্রাধ্যক্ষের গায়েও পড়ে। একইসঙ্গে সেখানে অবস্থানরত শামসুন নাহার হল সংসদের ভিপিসহ কয়েকজন নারী নেত্রীর উপর হামলা চালানো এবং তাহাদের নানাভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলিয়া জানা যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নূতন করিয়া এই অস্থিরতার ঘটনা দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। ভিপি ও তাহার সমর্থকদের উপর এই হামলার ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনকও বটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলির সহাবস্থান বহু দিন ধরিয়াই অধরা। ডাকসু নির্বাচনের পর আশা করা হইয়াছিল যে, ক্রমেই এই পরিস্থিতির উন্নতি হইবে। কিন্তু এখন সেই স্বপ্নভঙ্গের বেদনাই লক্ষ্য করা যাইতেছে সর্বত্র। এসএম হলের অপ্রত্যাশিত ঘটনা তদন্ত করিয়া দেখিতে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠিত হইয়াছে। আশা করি, দোষীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে। হামলার শিকার এসএম হলের উক্ত ছাত্রের কপালের ডান পাশ হইতে ডান কান পর্যন্ত ৩২টি সেলাই দেওয়া হইয়াছে। ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত ছাত্রসংগঠনের অন্যতম কর্মী হইলেও তাহার অপরাধ নিজ সংগঠন হইতে মনোনয়ন না দেওয়ায় গত ডাকসু নির্বাচনে তিনি হলের জিএস পদে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু ইহা আড়াল করিতে তাহার বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও বাণিজ্যের অপবাদ দেওয়া হয়। কোনো শিক্ষার্থী যদি মাদকাসক্তই থাকে, তাই বলিয়া কি তাহাকে প্রশাসন ছাড়া অন্য কেহ হল হইতে বাহির করিয়া দিতে পারে? এই অনধিকার চর্চার সাহস তাহারা পাইল কোথায়? শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ই নহে, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও একই রকম অনধিকার চর্চার অভিযোগ রহিয়াছে। এইভাবে তাহারা আমাদের দেশকে কোথায় নিয়া যাইতেছে? তাহারা আজ বাঘের পিঠে সওয়ার হইয়াছে বলিয়া প্রতীয়মান হয়। ইহার শেষ কোথায় তাহা আমরা কেহ জানি না।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, উপাচার্যের আশ্বাসের ভিত্তিতে আগামী সোমবার পর্যন্ত ভিপি তাহাদের অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করিয়াছেন। তবে এই সময়ের মধ্যে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হইলে আবার আন্দোলনের হুমকি দেওয়া হইয়াছে। আমরা মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে যেকোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ও অপরাধীর ব্যাপারে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠিয়া আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করিলে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব হইবে না। আশা করি, এই ব্যাপারেও যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হইবে।