মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করায় সুজানগর ছাত্রলীগ সভাপতি বহিষ্কার

আপডেট : ৩০ মে ২০১৭, ১৯:১০
 
নতুন করে প্রকাশিত মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় বাবার নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় পাবনার সুজানগর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শামীম আদম লিটনের হাতে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল হাই লাঞ্ছিত হয়েছেন। সোমবার দুপুরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয় থেকে তাকে লাঞ্ছিত করা হয়।
 
এ ঘটনায় ওইদিন রাতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শামীম আদম লিটনকে সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শামীম আদম লিটন তার বাবা মরহুম হোসেন আলী সরদারের নাম নতুনভাবে করা মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য যথাযথভাবে আবেদন করেন। কিন্তু উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট না থাকায় হোসেন আলী সরদারের নাম তালিকা অনুমোদন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠায়নি। ফলে গত ২৬-০৪-২০১৭ইং তারিখে প্রকাশিত চূড়ান্ত মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় তার নাম বাদ পড়ে।
 
এতে ছাত্রলীগ সভাপতি শামীম আদম লিটন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এরই এক পর্যায় সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল হাই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে গেলে শামীম আদম লিটন ওই কার্যালয়ে ঢুকে তাকে লাঞ্ছিত করেন। বিষয়টি উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ অবহিত হয়ে শামীম আদম লিটনকে ওইদিন রাতে বহিষ্কার করে।
 
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বরাত দিয়ে লিটনের বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ ব্যাপারে ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল হাই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে আমার কোন হাত নেই। লিটন নিছক ভুল বুঝে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে।' এ বিষয়ে লিটন বলেন, 'আব্দুল হাইকে আমি লাঞ্ছিত করিনি। সে আমার চাচা হয়। বিষয়টি নিয়ে তার সাথে বাগবিতণ্ডা হয়েছে মাত্র।' সুজানগর থানার অফিসার ইনচার্জ ওবাইদুল হক বলেন বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে আব্দুল হাই কোন অভিযোগ করেননি। অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
 
ইত্তেফাক/জামান