নড়াইলে এক স্কুল শিক্ষিকা তার পিতা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, 'তার পিতা ও ছোট ভাই রাসেল তার ঘর-দরজা, জানালা ও ইটের দেয়াল এবং টিন খুলে ফেলেছে। পরে মালামাল, অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটপাট করে নিয়ে গিয়েছে। এখন তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন।'
মঙ্গলবার দুপুরে নড়াইল প্রেসক্লাবের হল রুমে সংবাদ সম্মেলনে জেলার লোহাগড়া উপজেলার নলদী বিএসএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ও শহরের ভওয়াখালি এলাকার লাভলী ইয়াসমিন এ অভিযোগ করেন।
শহরের ভওয়াখালি এলাকার বাসিন্দা বাবা খায়ের মিয়া, ভাই সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদুল ইসলাম জুয়েল ও শাহারিয়ার পারভেজ রাসেলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগে শিক্ষিকা লাভলী বলেন, 'ভওয়াখালী এলাকায় ২০০৩ সালে বড় মামা মৃত আব্দুস সোবহান মোল্যার কাছ থেকে তার ছোট বোন ফারহানা রহমান ও ভগ্নীপতি এস এম শরিফুর রহমান ৬৮নং ভওয়াখালি মৌজার সাবেক ১৩৮৯, বর্তমান হাল- ৪১৫৪ দাগের ১০ শতক জমি ক্রয় করেন। তখন থেকে ওই জমিতে একটি টিনের ঘরে তিনি একমাত্র কলেজ পড়ুয়া সন্তান লিজানকে নিয়ে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু গত কয়েক বছর পূর্ব থেকে তার পিতা, দু'ভাই জুয়েল ও রাসেল অবৈধভাবে জায়গাটি দখল করার জন্য তাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছে।
২০১৬ সালের আগস্ট মাসে তার পিতা খায়ের মিয়া ছোট মেয়ে ফারহানা ও জামাই শরিফুরের বিরুদ্ধে এই জমি নিয়ে নড়াইল দেওয়ানি আদালতে মামলা করেছেন। সর্বশেষ গত ২৪ মে কর্মস্থল স্কুলে থাকার সময় বেলা ১১টার দিকে তার পিতা, মাতা ও ছোট ভাই রাসেল অপরিচিত কয়েক ব্যক্তিকে নিয়ে ঘরের দরজা, জানালা ও ইটের দেয়াল ভেঙ্গে ফেলে এবং টিন খুলে ফেলে। পরে টেলিভিশন, আসবাবপত্র, অর্থ, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান দ্রব্যসামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। আলমিরা, ফ্রিজ এখন রোদে পুড়ছে এবং বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে। বিদ্যুতের লাইন কেটে দিয়েছে। এখন দীর্ঘ ৭দিন খোলা আকাশের নীচে তিনি মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
বিষয়টি একাধিকবার নড়াইল পৌরসভায় এবং মৌখিকভাবে নড়াইলের পুলিশ সুপারকে জানিয়েছেন এবং ২৪ মে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় বাধ্য হয়ে সোমবার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, নড়াইল সদরে মামলা করেছেন। তিনি এর সুষ্ঠু তদন্ত করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির কাছে এর সুবিচার কামনা করেন। এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন বলেন, 'পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে ভাঙচুরের বিষয়টি তদন্ত করা হবে।'
এ বিষয়ে অভিযোগকারীর ভাই সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদুল ইসলাম জুয়েল জানান, 'আমি দেড় বছরের বেশি সময় বাড়িতে যাই না। মাঝে ভারতে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলাম। বিষয়টি সম্পর্কে বলতে পারব না। আমার বাবা ও ছোট ভাই বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন। তাদের সাথে কথা বলেন।'
