ভাঙ্গায় আশ্রয়ন-২ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, এমপির ক্ষোভ প্রকাশ

আপডেট : ৩১ মে ২০১৭, ১৫:১৮
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গিকার ও স্বপ্ন ‘যার জমি আছে ঘর নেই তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ’ আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় ৬৭টি ঘর নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সুবিধাভোগী ৬৭ জনের মধ্যে অধিকাংশ জনেরই রয়েছে ইটের তৈরি পাকা ঘরসহ বিঘায় বিঘায় জমি। কারও আবার পুত্র-সন্তানসহ পরিবারের অনেক সদস্যই প্রবাসে কর্মরত। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী যাদের জমি আছে কিন্তু বসবাসের ঘর নেই শুধু তাদের জন্যই বরাদ্দ এসব প্রকল্পের টাকা। অথচ সুবিধাভোগী ৬৭ জনের মধ্যে অধিকাংশই স্বচ্ছল এবং অসহায় গরীব ও গৃহহীনরা উক্ত প্রকল্পের আওতায়ভুক্ত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন।
 
তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করে দেশকে উন্নয়ন দিয়ে বিশ্ব দরবারে রোল মডেল হিসাবে দাঁড় করাচ্ছেন। আমি নির্বাচিত এমপি জনগণের পাশে থেকে শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্ত করতে সত্যিকারের উন্নয়ন দিয়ে ভাঙ্গা উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলা হিসাবে গড়ার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। অথচ বিশেষ একটি সুযোগ সন্ধানী মহল তা ম্লান করে দিতে অপচেষ্টা করছে। ভাঙ্গা উপজেলায় ১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা রয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নেই রয়েছে অসহায় ও গৃহহীন শত শত পরিবার। সম্প্রতি আশ্রয়ন-২ প্রকল্পে শুধুমাত্র কালামৃধা ও আজিমনগর ইউনিয়নের বিত্তশালীদের নাম অর্ন্তভুক্ত হওয়াতে পুরো উপজেলার জনগণের মাঝেই তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি দ্রুত প্রকল্প এলাকায় সঠিক অসহায় ও গৃহহীনদের মাঝে গৃহ নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য।
 
তিনি বলেন, অপরদিকে প্রকল্প বাস্তবায়ন এলাকা কালামৃধা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লিটন মাতুব্বর গত ২৯ মে জেলা প্রশাসক বরাবর প্রকল্পের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত চেয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। লিটন চেয়ারম্যান বলেন, আমার পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন আজিমনগর ও কালামৃধাতেই আশ্রয়ন-২ প্রকল্পে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৬৭ জন দরিদ্র, অসহায়দের জন্য টাকা বরাদ্দ আসে উপজেলা নিবার্হী অফিসারের কার্যালয় এবং কাজ শুরু করে উপজেলা প্রশাসন। চিঠিতে আমি দেখতে পাই ৬৭ জনের মধ্যে অধিকাংশই বিত্তশালী। অথচ যারা গরীব তারা কেহই এই বরাদ্দ পায় নাই।
 
এ ব্যাপারে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাজী ফয়সাল জানায়, আমি সদ্য ভাঙ্গাতে যোগদান করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন-২ প্রকল্পে যাদের নাম এসেছে তা আমাদের উপজেলা পরিষদ থেকে কেউ দেয় নাই। আমরা বরাদ্দ পাওয়ার পর কাজ শুরু করেছি মাত্র। তবে যদি কেউ অভিযোগ করে আমরা তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা নিব।
 
ইত্তেফাক/এমআই