‘প্রাণের স্পন্দনে, প্রকৃতির বন্ধনে’— এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আগামী ৫ জুন পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হবে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এ বছর দিবসটির শ্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘আমি প্রকৃতির, প্রকৃতি আমার’। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে দিবসটির ওপর নানা তথ্য আলোকপাত করেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। তিনি জানান, আগামী ৪ জুন সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান, পরিবেশ মেলা ছাড়াও তিন মাসব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অবদান রাখায় এবার দুজন ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পরিবেশ পদক বা বঙ্গবন্ধু পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বৃক্ষরোপণে অবদানের জন্য ২৭ জনকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পুরস্কার দেয়া হবে।
পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে প্রকৃতি ও পরিবেশ ক্রমাগতভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। একদিকে জীবনের চাহিদা অন্যদিকে বিশ্বকে বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচানো— এ দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধনের বিষয়টি চ্যালেঞ্জের। কিন্তু ধরীত্রিকে টিকিয়ে রাখতে হলে এ দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করতেই হবে।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, বর্তমান সরকার পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে। একটি উন্নত দেশ গঠনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০টি বিশেষ উদ্যোগের মধ্যে একটি হচ্ছে পরিবেশ সুরক্ষা। তিনি আরো বলেন, বিশ্বকে জলবায়ু অভিঘাত থেকে রক্ষা করার জন্য প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। এ জন্য পরিবেশ দিবস ও বৃক্ষরোপণ অভিযানকে ঘিরে জনগণের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ইশতিয়াক আহমেদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রইছউল আলম মন্ডল, প্রধান বন সংরক্ষক শফিউল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এতে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের গৃহীত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
ইত্তেফাক/নূহু
