ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে একটি বিচ্ছেদ চুক্তির বিষয়ে বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছতে ব্রেক্সিট পেছানোর অনুরোধ জানাতে পারেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। তবে বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে আরেকটি চুক্তি হলেও তার নিজের চুক্তিটি এর অংশ হয়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গণভোটে বিচ্ছেদের পক্ষে রায় আসার প্রায় তিন বছর পার হওয়ার পরও যুক্তরাজ্য কীভাবে, কখন বা ইইউ ছাড়বে তা পরিষ্কার হয়নি। ব্রেক্সিটের গোলকধাঁধাঁ থেকে বের হওয়ার পথ কী হতে পারে, তা নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতি হিসেবে সাত ঘণ্টা পার করার পর তড়িঘড়ি করে তৈরি এক বিবৃতিতে মে বলেন, ব্রেক্সিটের সময়সীমা ১২ এপ্রিলের পর আরও অল্প কিছুদিন বাড়াতে চাইছেন তিনি। তার এসব পদক্ষেপে এ ধারণা পাওয়া যাচ্ছে, ব্রেক্সিটের পর ইইউয়ের সঙ্গে যুক্তরাজ্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক আগে যেমনটি ভাবা হয়েছিল হয়তো তার চেয়েও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়ে যাবে। কিন্তু তার রক্ষণশীল দলের যেসব এমপিরা ইইউয়ের সঙ্গে বিচ্ছেদ আরও সুস্পষ্ট করতে চান তারা এতে বেঁকে বসতে পারেন। এ ঝুঁকি সত্বেও মে বলেছেন, ‘ইইউ ত্যাগ করার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য ও একটি চুক্তির মাধ্যমে তা করার জন্য আমাদের দুজনেরই সমর্থন থাকবে এমন একটি চুক্তির বিষয়ে সমঝোতার জন্য বিরোধীদলের নেতার সঙ্গে বসার প্রস্তাব দিচ্ছি আমি।’
মে বলেন, ‘এর জন্য আর্টিকেল ৫০ (বিচ্ছেদের প্রজ্ঞাপন) এর সময়সীমা আরও বাড়ানো দরকার, তবে তা যতটা সম্ভব সংক্ষিপ্ত হবে এবং তা আমাদের একটি চুক্তি পাস হওয়ার মাধ্যমে শেষ হবে। কেন এ সময়সীমা বাড়ানো হচ্ছে সে বিষয়টি পরিষ্কার থাকা দরকার, এটি করা হচ্ছে সময়মতো ও সুশৃঙ্খলভাবে আমরা যেন বের হতে পারি তা নিশ্চিত করার জন্য।’
করবিন জানিয়েছেন, তিনি মের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে পারলে ‘খুব খুশি’ হবেন এবং আলোচনার আগে তিনি কোনো সীমা নির্ধারণ করবেন না। ইইউয়ের সঙ্গে একটি ‘কাস্টম ইউনিয়ন’ বজায় রাখা, এর একক বাজারে ব্রিটেনের প্রবেশ ও শ্রমিকদের সুরক্ষা, এগুলোই তার দলের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ব্রেক্সিট সমর্থক পার্লামেন্ট সদস্য অ্যান্ড্রু ব্রিজেন। বুধবার স্কাইনিউজকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘থেরেসা মের বোঝা উচিত আমাদের দেশ ও গণতন্ত্র ও কনজারভেটিভ পার্টির জন্য কি প্রয়োজন। সেটা উপলব্ধি করেই তার পদত্যাগ করা উচিত।’
