হাওরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক না খেয়ে থাকবে না প্রধান মন্ত্রীর এমন ঘোষণা কয়েক দিন যেতে না যেতেই খালিয়াজুরীতে খাদ্য বিভাগের ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) এর চাল বিক্রি আজ বৃহস্পতিবার থেকে স্থগিত করে দেয়া হয়েছে। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভিজিএফ সুবিধা বঞ্চিত পরিবারগুলোতে খাদ্য সঙ্কট আরো বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, সাম্প্রতিক অকাল বন্যায় নেত্রকোনার হাওরদ্বীপ খালিয়াজুরী উপজেলায় সমস্ত বোরো ফসল বিনষ্ট হয়ে নিঃস্ব হয়ে যায় অন্তত ২৫ হাজার পরিবার। এ অবস্থায় সরকারি ভাবে এখানকার ১০ হাজার পরিবারকে ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচির আওতায় নেয়া হয়। এসব পরিবারের মাঝে মাসে ৩০ কেজি করে চাল এবং নগদ ৫শ টাকা করে বিতরণ করা হচ্ছে। বাকিদের জন্য গত ১৭ এপ্রিল থেকে ৬ টি ইউনিয়নে ৭ জন ডিলারের মাধ্যমে খোলাবাজারে চাল বিক্রির (ওএমএস) কর্মসূচি চালু করে খাদ্য বিভাগ। এ কর্মসূচির আওতায় একজন ডিলারকে প্রতি শনিবার ব্যতীত প্রতিদিন এক মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। ভিজিএফ সুবিধা বঞ্চিতরা ডিলারের মাধ্যমে মাত্র ১৫ টাকা কেজি দরে দৈনিক পাঁচ কেজি করে চাল কেনার সুযোগ পেতো। এতে করে সদর ইউনিয়নে ৪শ ও অন্য একেকটি ইউনিয়নের ২শ পরিবার প্রতিদিন ওএমএস’র সুবিধা পেতো। কিন্তু কোন রকম পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই খাদ্য বিভাগ বৃহস্পতিবার থেকে ওএমএস’র চাল বিক্রি স্থগিত ঘোষণা করে দেয়। ফলে বন্ধ হয়ে যায় উপজেলার ৭টি বিক্রয় কেন্দ্র।
খালিয়াজুরীর চাকুয়া ইউনিয়নের ওএমএস ডিলার মো. খলিল মিয়া জানান, কি কারণে স্বল্প মূল্যের ওএমএস’র বরাদ্দ স্থগিত করা হয়েছে তা আমাদের জানানো হয়নি’।
খালিয়াজুরী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনসুরুল আলম জানান, ‘খাদ্য বিভাগের সরবরাহ বণ্টন ও বিপণন বিভাগের উপ-পরিচালক এম এ সাঈদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ১জুন থেকে ওএমএস’র চাল বিক্রি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন’।
খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘ওএমএস’র কার্যক্রম স্থগিত করায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবারে খাদ্য সঙ্কট দেখা দিতে পারে। কারণ খুচরা বাজারে চালের দাম অনেক বেশী। এ বিষয়টি বিবেচনা করে ওএমএস কার্যক্রম চালু রাখতে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
ইত্তেফাক/এমআর
