আমিন জুয়েলার্সের দুই এক্সিকিউটিভ কারাগারে

আপডেট : ০১ জুন ২০১৭, ১৫:১৪
 
এটিএম কার্ড জালিয়াতি করে রাজশাহীর কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের উপ-কমিশনার তাহমিনা আক্তার পলির কার্ড থেকে ৩১ হাজার টাকা চুরির অভিযোগে গ্রেফতার আমিন জুয়েলার্সের দুই এক্সিকেউটিভ মনির হোসেন (২৯) এবং বিমান কুমার ভদ্র (৩৮)কে একদিনের রিমান্ড শেষে আজ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
 
পল্টন থানার পরিদর্শক(তদন্ত) কাজী শাহেদুজ্জামান জানান, রিমান্ডে তারা কার্ড জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ কারণে পুনরায় তাদের রিমান্ডে নেয়ার প্রয়োজন পড়েনি।
 
গত সোমবার দুপুরে রাজশাহীর কাস্টমস কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার পলি (৩১) বায়তুল মোকাররম মার্কেটে অবস্থিত আমিন জুয়েলার্সের ২ নম্বর শাখায় স্বর্ণের গহনা কিনতে যান। ৩১ হাজার টাকা মূল্যের একটি গহনা পছন্দ হয় পলির। তিনি তার ডাচ বাংলা ব্যাংক ন্যাক্সাস কার্ডের মাধ্যমে এর বিল দিতে চান। তখন বিমান কুমার ভদ্র ওই কাস্টমস কর্মকর্তাকে জানান, তাদের এখানেই ওই কার্ড ক্যাশ ইন করা হবে। পরে মনির তার (বিমান) হাতে পলির নেক্সাস কার্ডটি দিতে বলেন। দুপুর ১টা ১০ মিনিটে মনিরের কথায় কার্ডটি বিমানের হাতে দেন পলি। 
 
তখন বিমান বলেন, ‘পাশেই আমাদের আরেকটি শো রুম আছে। আপনার কার্ডটি সেখানে নিয়ে যাচ্ছি। এর কিছুক্ষণ পর মনির সেখান থেকে ফিরে এসে জানান, ক্যাশ ইন করার জন্য আপনার ন্যাক্সাস কার্ডের পাসওয়ার্ড প্রয়োজন।’ পাসওয়ার্ড দেওয়ার জন্য কাস্টমস কর্মকর্তা পলি আমিন জুয়েলার্সের পাশের শো রুমে যান। সেখানে তার কার্ডটি পাঞ্চ করার সময় সবার সামনেই তিনি পাসওয়ার্ড টাইট করেন। কিন্তু কার্ডের মাধ্যমে টাকা ক্যাশ ইন হয়নি। পরে মনির এবং বিমান ওই নারী কাস্টমস কর্মকর্তাকে বলেন, ‘আপনি পল্টনে গিয়ে বুথ থেকে টাকা তুলে নিয়ে আসেন।’ 
 
কাস্টমস কর্মকর্তা পলি টাকা তুলতে কার্ডটি নিয়ে পল্টনে অবস্থিত ডাচ বাংলা ব্যাংকের বুথে যান। কার্ডটি বুথে প্রবেশ করালে তা ভেতরে আটকে যায়। পরে দুপুর ১টা ৩৭ মিনিটি ২ সেকেন্ড থেকে ১টা ৩৮ মিনিটি ১১ সেকেন্ডের মধ্যে তিন দফায় পলির কার্ডের বিপরীতে ৫০ হাজার টাকা তোলা হয় বলে মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে তিনি জানাতে পারেন। এরপর ঐ কর্মকর্তা থানায় উপস্থিত হয়ে একটি প্রতারণা মামলা করেন। এই মামলায় গত মঙ্গলবার তাদের একদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর