g ইত্তেফাক ডেস্ক
ভারতে কংগ্রেস ক্ষমতায় আসলে বিতর্কিত রাষ্ট্রদ্রোহ আইন বাতিল করার অঙ্গীকার করার পর তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত নিজেদের ইশতেহারে এই অঙ্গীকার করে কংগ্রেস। ব্রিটিশ আমলের এই আইনটি গত কয়েক বছর ধরে ভারতে ব্যাপকভাবে ব্যবহূত হচ্ছে। বর্তমান বিজেপি সরকার এবং আগের কংগ্রেস সরকারও এই আইন প্রয়োগ করেছে। খবর বিবিসি’র
বিজেপি বলছে, এই আইন যারা বাতিল করতে চান তাদের ভারতে ভোট চাওয়ারই কোনো অধিকার নেই। মানবাধিকার সংগঠনগুলো অবশ্য এই আইন বাতিলে কংগ্রেসের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪(এ) ধারাটিই সাধারণভাবে ‘সিডিশন ল’ নামে পরিচিত। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস বলছে, তারা ক্ষমতায় এলে এই বিতর্কিত আইনটি বিলুপ্ত হবে। সিনিয়র কংগ্রেস নেতা ও সাবেক আইনমন্ত্রী কপিল সিবাল বলছিলেন, যে কোনো একজন ব্যক্তির চেয়ে রাষ্ট্র অনেক বেশি ক্ষমতাশালী। একা একজনের হাতে রাষ্ট্রকে উত্খাত করার কোনো ক্ষমতাই থাকতে পারে না। রাষ্ট্রদ্রোহ আইনও কিন্তু ঠিক এই কথাটাই বলে। তারপরও আমরা দেখছি সরকারের বিরুদ্ধে কেউ একটা টুইট করলে কিংবা প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোস্ট দিলেও তার বিরুদ্ধে এই আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। ফলে কেন্দ্রীয় সরকারগুলো এই আইনের অপব্যবহার করেই চলেছে। এই অপব্যবহার ঠেকাতেই কংগ্রেস চায়, গোটা আইনটিই তুলে দেওয়া হোক। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পরিচালক মীনাক্ষী গাঙুলি এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, বিজেপি বা কংগ্রেস কোনো সরকারই আসলে এই আইনটিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেনি। তার কথায়, ভারতে আমরা প্রথম এই আইনটির উল্লেখযোগ্য প্রয়োগ লক্ষ্য করি যখন কংগ্রেস আমলে মাওবাদীদের সহায়তার অভিযোগে ড: বিনায়ক সেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারপর থেকেই আইনটির ব্যবহার একেবারে বেড়ে গেছে! বিনায়ক সেন মামলাতেই কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার বলেছিল, রাষ্ট্রের সঙ্গে কারো একটা আদর্শগত বিরোধ হলেই কিন্তু সেটা রাষ্ট্রদ্রোহ হয় না। এটা দেখাতে হবে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো হিংসায় মদত দিচ্ছেন কিংবা কোনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছেন, তখনই কেবল রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা যাবে। কিন্তু এই স্পষ্ট নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও আমরা বারবারই দেখছি সরকারের যে কোনো সমালোচনাতেই ঢালাওভাবে এই আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে, বলেন গাঙুলি।
বর্তমানে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার এই দেশদ্রোহ আইন ব্যবহার করেছে দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতা কানহাইয়া কুমার বা উমর খালিদদের বিরুদ্ধে। দেশের বিভিন্ন শহরে বামপন্থি বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধেও দেশদ্রোহ আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে যাদের বর্ণনা করা হয়েছে ‘শহুরে মাওবাদী’ হিসেবে। এদিকে কংগ্রেস তাদের ইশতেহারে এই ঘোষণা করার পরই এই আইন বাতিলের প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছেন বিজেপি নেতা ও অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। তিনি বলছেন, কংগ্রেস চাইছে দেশদ্রোহ করা এখন থেকে আর অপরাধ বলে গণ্য হবে না!
