কিশোরগঞ্জে গৃহবধূকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৭, ১২:৫৩
 
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুশা মোতাপাড়া গ্রামে ফারহানা বেগম (২০) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে ও পিঠিয়ে হত্যা করে লাশ ঘরের তীরের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।শনিবার সকাল ৬ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ওই গৃহবধূ একই ইউনিয়নের মুশা নয়াপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার মেয়ে। 
 
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছর আগে কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের মুশা নয়াপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার মেয়ে ফারহানা বেগমের বিয়ে হয় একই ইউনিয়নের মুশা মোতাপাড়া গ্রামের আব্দুস শবুরের ছেলে মাজেদুল ইসলামের সঙ্গে। কন্যা সন্তান জন্মের পর যৌতুকের দাবিতে ফারহানা বেগমের শ্বশুর আব্দুস শবুর, শাশুড়ি মাহমুদা বেগম, ননদ ছকিনা বেগম, দেবর জিয়াউর রহমানসহ সবাই মিলে ফারহানাকে তার বাবার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক নিয়ে আসতে বলেন। কিন্তু ফারহানার গরীর বাবা তাদের দাবিকৃত যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় ফারহানা তার স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে চলে যান। স্বামী মাজেদুল ইসলাম তার বাবা-মাতার কথা না শুনে গত তিন মাস আগে ফারহানা ও তার ৬ মাসের শিশু সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় গিয়ে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। গত ২৫ মে শিশু কন্যা মিতু নিউমোনিয়ায় রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার জন্য ফারহানা তাকে নিয়ে তার বাবার বাড়িতে চলে আসেন। 
 
বৃহস্পতিবার খবর পেয়ে ফারহানার শাশুড়ি তাকে নিতে তার বাবার বাড়িতে আসেন। ফারহানা আবারো তার শাশুড়ির সঙ্গে স্বামীর বাড়িতে যান। ঘটনার দিন শুক্রবার সেহরি খাওয়ার সময় ননদ ছকিনা বেগম, দেবর জিয়াউর রহমান ও শ্বশুর আব্দুস শবুর আবারো তাকে নির্যাতন শুরু করেন। মেয়েটি প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্ঠা করলে শাশুড়ি মাহমুদা বেগম তাকে ধরে নিয়ে এসে  মারপিট করে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ ঘরের তীরের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে স্বপরিবারে পালিয়ে যান।শনিবার সকালে এলাকাবাসী ফারহানার ঝুলন্ত লাশ দেখে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে খবর দেয়। 
 
কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বজলুর রশিদ জানান, কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনিছুল ইসলাম আনিছের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ফারহানা বেগমের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্টে মেয়েটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। 
 
ধারণা করা হচ্ছে, মেয়েটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী মর্গে পাঠানো হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/কেকে