এক পশলা বৃষ্টিতেই বানারীপাড়া পৌর শহর খালে রূপান্তর!

আপডেট : ০৪ জুন ২০১৭, ০৩:২৬

বানারীপাড়া পৌরবাসী আশানুরূপ নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এখানে এক পশলা বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি জমে বানারীপাড়া পৌর শহর ‘খালে’ রুপান্তরিত হয়। প্রতিটি সড়ক মনে হয় যেন একেকটি খাল। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য ঝড় বৃষ্টি হলেই এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, পৌর এলাকার শতাধিক পুকুর ও ১৪টি সরকারি খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় এই ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। প্রতিটি সড়কে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা, সরু ও নিম্নমানের অপরিকল্পিত ড্রেনেজ নির্মাণ, ডাষ্টবিন না থাকায় ময়লা আর্বজনা ফেলে ড্রেন আটকে ফেলা, একের পর এক পুকুর, ডোবা ও সরকারি খাল ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণসহ নানা কারণে বর্ষা মৌসুমে পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে চরম জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। এক পশলা বৃষ্টি হলেই বানারীপাড়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের বাইপাস সড়ক, বন্দর বাজারের রিকশাস্ট্যান্ড থেকে স্বর্ণকার পট্টি হয়ে থানার সামনের সড়ক ও বন্দর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বানারীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন (পাইলট) স্কুলের মোড় পর্যন্ত হাঁটু পানি জমে যায়। ফলে শিক্ষার্থীসহ পৌরবাসীকে চরম দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করতে হয়। এছাড়াও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের প্রায় প্রতিটি বাড়ির বাগানেই আবার কোনো কোনো বাড়ির উঠানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে মনে হয় যেন দ্বীপের মাঝে বাড়ি। প্রতি বছর বৃষ্টির মধ্যে বানারীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন (পাইলট) স্কুলের পশ্চিম পাশের সড়ক ও মাঠে জাল নিয়ে মাছ শিকারের দৃশ্য দেখা যায়।

এদিকে ময়লা আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট ডাষ্টবিন না থাকায় যত্রতত্র ফেলে রাখায় পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। পৌর এলাকার বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে ময়লা আবর্জনার পুতিদুর্গন্ধ। এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীল জানান, পৌর শহরে জলাবদ্ধতা নিরসনে অবৈধভাবে ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলো স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুসের সহায়তায় পুনরুদ্ধারে ইতোমধ্যে উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় কমিটির সভায় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি পৌরবাসীর পরামর্শ নিয়ে প্রতিটি সড়কে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে ডাষ্টবিন নির্মাণের কথা জানান।

ইত্তেফাক/নূহু