বনানীর এফ আর টাওয়ারের আট তলায় (লেভেল-৭) স্পেক্ট্রা এসএন টেক্সটাইলের অফিস থেকে আগুনের সূত্রপাত। আট তলায় স্পেক্ট্রা টেক্সটাইলের স্টোর রুমে টেক্সটাইল কারখানায় ব্যবহূত কেমিকেলের নমুনা ছাড়াও স্পেক্ট্রা সোয়েটার ও স্পেক্ট্রা বায়িং হাউজের পোষাকের নমুনা রাখা ছিল। স্টোর রুমের পাশেই রান্নাঘর। রান্নাঘরে গ্যাস সংযোগ থাকলেও চায়ের পানি গরম করা হয় ইলেকট্রিক কেতলির মাধ্যমে। শর্ট সার্কিট হওয়ার আগেই ইলেকট্রিক কেটলি বিকল হয়ে যায়। এর পরই আগুনের সূত্রপাত। ২৮ মার্চ বেলা ১২ টা ৫ মিনিটে এই আগুনের সূত্রপাতের সময় স্পেক্ট্রা এসএন টেক্সটাইল অফিসে মাত্র ৩ জন কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। তারা অনেক চেষ্টা করেও আগুন নেভাতে পারেননি। এরপর ওই তিন জন নিরাপদে সেখান থেকে বেরিয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে স্টোর রুমের কেমিক্যাল ও তৈরি পোষাকের নমুনায় আগুন ধরে গিয়ে ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে। ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটির কাছে এরকম তথ্য মিলেছে। দুই একদিনের মধ্যে এই তদন্ত রিপোর্ট ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে জমা দেয়া হবে।
অগ্নিকান্ডের পর সিআইডি’র ক্রাইম সিন বিভাগ ঘটনাস্থল থেকে ১০ ধরনের আলামত সংগ্রহ করে। এই আলামতগুলো গতকাল বনানী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার সঙ্গে আলামতগুলো সংযুক্ত করা হবে। আলামতগুলো হলো, একটি ইলেকট্রিক কেটলি, পোড়া বৈদ্যুতিক তারের অংশ, জিন্স প্যান্টের পোড়া অংশ, দেয়ালের পোড়া স্থানের ক্রেসিং কালো গুড়া, বৈদ্যুতিক লাইনের বোর্ডসহ বৈদ্যুতিক তার, টিন ও প্লাস্টিকের বোতল, বৈদ্যুতিক বোর্ডের পোড়া তার, একটি মাল্টিপ্লাগ পোড়া সুইচ বোর্ড, পার্টিকেল বোর্ডের পোড়া অংশ এবং তারসহ বৈদ্যুতিক বোর্ড। আলামতগুলোর মধ্যে জিন্সের প্যান্টের পোড়া অংশ স্পেক্ট্রা এসএন টেক্সটাইলের তৈরি পোষাকের নমুনা। টিন ও প্লাস্টিকের বোতলে টেক্সটাইলে কাপড় তৈরিতে ব্যবহূত কেমিকেলের নমুনা রয়েছে।
এদিকে, এফআর টাওয়ারের একজন কর্মকর্তা বলেন, ৮ম তলার পাশাপাশি ৭ম তলায় টাওয়ার পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি সেলিম উল্লাহ’র ছেলে সাকিবের অফিস রয়েছে। গত ৩/৪ বছর ধরে সেলিম উল্লাহ’র টেক্সটাইল ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছে। টঙ্গীর হিমেরদীঘি এলাকায় স্পেক্ট্রা সোয়েটার নামে ফ্যাক্টরি রয়েছে। এফ আর টাওয়ারের ৮ম তলার প্রধান অফিসের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে তার টেক্সটাইলে স্থানান্তর করা হয়। ওই ফ্লোরে বিভিন্ন সময়ে ৩/৪ জন কর্মচারী কর্মরত থাকতেন। সেলিম উল্লাহ অফিসে অনিয়মিত ছিলেন। এই কমিটির কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আমিনুর রহমান ভবনের ৯ম তলার ( লেভেল-৮) মালিক। এআই ফ্রেইথ নামে তার অফিসটি সেখানে পরিচালিত হত। অগ্নিকান্ডে ৯ম তলার সব কিছুই পুড়ে গেছে।
গতকাল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় সেলিম উল্লাহর বাড়িতে অভিযান চালায়। তকে তার আগেই সেলিম উল্লাহ ও তার ছেলে সাকিব গা ঢাকা দেন। অপরদিকে পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এ এ এম মনিরুজ্জামানকে আটক করতে গতকাল বনানী মাঠের পাশে তার বাংলো বাড়িতেও অভিযান চালায়। তাকেও আটক করতে পারেনি। এ এ এম মনিরুজ্জামান এফ আর টাওয়ারের ১৫ তলায় অবস্থিত মাইকা সিকিউরিটিজের সত্ত্বাধিকারী।
