নেত্রকোনা জেলার বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং পর্যটন সড়ক হিসেবে পরিচিত শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কটি নির্মাণ নিয়ে একটি কুচক্রী মহল সড়ক সংস্কারে বার বার বাধা দেবার কারণে টাকা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও সড়কটির নির্মাণ কাজ শুরু হতে পারছে না। অথচ প্রধানমন্ত্রী এই সড়কের গুরুত্ব অনুধাবন করে ঢাকা ময়মনসিংহ সড়কের ন্যায় সড়কটি নির্মাণ কাজের জন্য ৩১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করেন এবং একনেকের সভায় তা পাসও হয়। সড়কটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হলেও একটি পক্ষ আদালতে মামলা করায় আকস্মিকভাবে সড়ক সংস্কারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। মানুষের দুর্ভোগ প্রান্ত সীমায় পৌঁছেছে। যানবাহন চলাচল করতে না পারায় জনগণ চরম দুর্ভোগে পড়ে। পণ্যবাহী ট্রাক সড়কেই দিনের পর দিন আটকে থাকে। এখনো তাই।
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার শ্যামগঞ্জ চৌরাস্তা থেকে বিরিশিরি পর্যন্ত ৩৬ কিলোমিটার সড়কটি গত চার বছর যাবত্ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন জারিয়া থেকে ৫ থেকে ৭ শত ট্রাক বালি নিয়ে ময়মনসিংহ এবং ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচল করে। সড়কের লোড নেবার ক্ষমতা যেখানে ৫ থেকে ৭ টন সেখানে ৩০ টন বালি নিয়ে ট্রাক চলাচল করায় সড়কটি দেবে যায় এবং বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। এই ভাঙা স্থানে বৃষ্টির পানি পড়ে এক সময় সড়কটি কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। সড়কটি অস্তিত্ব হারাতে থাকে। সড়কটি নতুন করে সংস্কারের জন্য পূর্বধলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা অওয়ামী লীগ সভাপতি ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল বীরপ্রতীক বার বার যোগাযোগ মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেও সড়কটির কথা বলেন। পরবর্তী সময়ে একেনেকের সভায় এই সড়কটি নিয়ে কথা উঠলে এই সড়কটি সাধারণভাবে নির্মাণ না করে জাতীয় সড়ক পথের সঙ্গে সংযোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী এটিকে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সড়ক এবং পর্যটন সড়ক হিসেবে চিহ্নিত করে ৩১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। একনেক সভায় তা পাসও হয়।
এদিকে টাকা বরাদ্দ পাবার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে টেন্ডার আহ্বান করে টেন্ডার প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেন্ডার প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়ায় আদালতে মামলা করে দেয়। এই মামলার পিছনে কেন্দ্রের এক আওয়ামী লীগ নেতা এবং ভালুকার এক বিএনপি নেতা দায়ী বলে এলাকাবাসী জানায়। আর এভাবেই সড়ক সংস্কারের কাজ পিছিয়ে যায়। তবে একটি সূত্র গতকাল বৃহস্পতিবার জানায়, মামলা বর্তমানে শেষ হয়েছে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ার কাজ চলছে। এক সপ্তাহের মধ্যে ঠিকাদার কাজ পাবেন এবং যে কোনো দিন সড়কটির নির্মাণ কাজ শুরু হবে।
নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক ড. মো. মুশফিকুর রহমান জানান, তিনিও এই সড়কটি সংস্কারের জন্য কয়েকবার যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে এবং দ্রুতই কাজ শুরু হবে।
এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল বীরপ্রতীক জানান, সড়কটি নির্মাণের জন্য গত কয়েক মাসে তিনি মামলা বাতিলের জন্য কাজ করেন। বর্তমানে পূর্বধলাবাসী এবং দুর্গাপুরবাসী মামলায় জয়লাভ করেছেন। আর তাই কাজটি অচিরেই শুরু হবে। এলাাকাবাসীও দ্রুত সড়ক নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল মহলের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।
ইত্তেফাক, নূহু
