দুই যুবককে নির্যাতনের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল

আপডেট : ০৫ জুন ২০১৭, ১৭:১৮
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রমিজ উদ্দিন দুই যুবককে নির্যাতন করেছেন এমন কয়েকটি ছবি রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত হলে তা ভাইরাল আকারে ছড়িয়ে পড়ে।
 
চেয়ারম্যান রমিজ উদ্দিন রোববার সন্ধ্যায় মাওহা ইউনিয়নের বীর আহাম্মদপুর গ্রামের ওই দুই যুবককে বিচারের নামে নির্যাতন করেন। নির্যাতনের শিকার ওই দুই যুবক হলেন বীর আহাম্মেদপুর গ্রামের রোকন ও দীপ্ত।
 
জানা গেছে, ওই দুই যুবকের মধ্যে রোকন মাদক সেবন করে। আর দীপ্ত এলাকায় চুরি করে। গত রোববার বিকালে রমিজ উদ্দিন বেখৈরহাটি যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তারুশাহের মাজারে পাশে রোকন ও দীপ্ত বসে আড্ডা দিচ্ছিল। তখন রমিজ উদ্দিন তাদের দেখে ডাক দিলে ওই দুই যুবক মোটরসাইকেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে রমিজ উদ্দিন তাদের ধাওয়া করে আটক করে বীর আহাম্মদপুর বাজারে নিয়ে আসে।
IMG0
ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া নির্যাতনের ছবিতে দেখা যায়,  রোকন নামের যুবককে একটি খুঁটির সঙ্গে দাঁড় করিয়ে পেছন দিক থেকে খুঁটিতে পা দিয়ে রোকনের দুই হাত পেছন দিকে টেনে ধরেছেন চেয়ারম্যান রমিজ। এ সময় ঘটনাস্থলের আশে-পাশেই দাঁড়িয়ে থেকে উৎসুক অনেকেই এই দৃশ্য দেখছিলেন। এর মধ্যে অনেকই এই নির্যাতনের ছবি মুঠোফোনের ক্যামেরায় ধারণ করেন। এরপর রোববার সন্ধ্যায় নির্যাতনের কয়েকটি ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান রমিজ উদ্দিন বলেন, ‘মাওহা ইউনিয়নে মাদকের ভয়াবহতা চরম আকার ধারণ করেছে। আমি ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করার জন্য এলাকাবাসীকে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। রোকন একজন মাদকসেবী ও দীপ্ত একজন চোর।  রোকনের শরীর তল্লাশি করে একটি রাংছা কাগজ ও ধাতব মুদ্রা পাওয়া যায়। পরে এলাকাবাসীর অনুরোধে আমি রোকনকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে চর থাপ্পর দিয়ে ছেড়ে দেই। আর দীপ্তকে ৫০ টাকা দিয়ে মাথার চুল সুন্দর করে কাটতে বলি। পাশাপাশি তাদের দুজনকেই ভালোভাবে চলাফেরা করার কথা বলা হয়েছে।’
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তার বলেন, কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়। শারীরিকভাবে নির্যাতন করা উচিৎ হয়নি। অপরাধ করলে তাকে আইনের হাতে তুলে দেয়া উচিৎ ছিল।
 
 
ইত্তেফাক/ইউবি