ইসলামপুরে বাজার রক্ষা বাঁধ আজো মেরামত করা হয়নি

আপডেট : ০৬ জুন ২০১৭, ০৩:৩১

জামালপুর জেলার ইসলামপুর গুঠাইল বাজার রক্ষা বাঁধটি ইতোমধ্যেই যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুম পেরুলেও এখনো যমুনার নৌ-বন্দর নামে খ্যাত গুঠাইল বাজার রক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হয়নি। ফলে যমুনার পানি বাড়তে থাকায় ভাঙন আতঙ্কে ভুগছে বাজারের ব্যবসায়ী মহলসহ এলাকাবাসী।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জামালপুর সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ দশকের শেষের দিকে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে গুঠাইল বাজার রক্ষার জন্য ৬১০ মিটার দৈর্ঘ্য যমুনার তীর সংরক্ষণ বাঁধ (হার্ডপয়েন্ট) ইট দিয়ে নির্মাণ করা হয়। ২০০৩ সালে যমুনার পানির স্রোতধারা সরাসরি আঘাত করায় নানা স্থানে ফলিং অ্যাপ্রোসে ধস নামে। গত বত্সর বর্ষায় বাঁধটিতে দুই দফা ভাঙনের ফলে হুমকির মুখে পড়ে গুঠাইল বাজার নৌ-বন্দর।

পাউবো সূত্রে জানায়, গত বত্সর ২০০ মিটার ধসে যাওয়া বাঁধের মেরামত কাজের জন্য এক কোটি ৫৮ লাখ টাকার কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয় পাউবো, মেসার্স গুডম্যান এন্টারপ্রাইজ নামের এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে। ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গত বত্সর ৭ মে কাজ শুরু করে ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করে।  

কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সদস্য শাহনেওয়াজ সরকার, চিনাডুলী ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুস ছালামসহ স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী আমাদের দুঃখে ব্যথিত হয়ে যমুনার ভাঙন রোধে অর্থদান করেন। কিন্তু শুকনো মৌসুমে বাঁধ মেরামত না করে পাউবো ভরা বর্ষায় যমুনা নদীতে ভাঙন শুরু হলে তড়িঘড়ি বালির বস্তা ফেলে থাকে। এ সময় পানির প্রবল স্রোতে ওই সব বালির বস্তা অন্যত্র ভেসে যায়। ভাঙন রোধে কোনো কাজে আসে না। ফলে প্রতি বত্সর বাঁধ রক্ষার নামে কোটি কোটি টাকা সরকারি অর্থ গচ্চা যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর অভিযোগ ভরা বর্ষা মৌসুমে লোক দেখানো বস্তা ফেলে রাতারাতি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানসহ পাউবোর অসত্ লোকজন। এসব যেন দেখার কেউ নেই।

বর্তমানে ৬১০ মিটার বাঁধের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ যমুনায় বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে গুঠাইল বাজার নৌ-বন্দর, গুঠাইল হাইস্কুল এন্ড কলেজ, গুঠাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গুঠাইল মাদ্রাসা, মসজিদসহ অসংখ্য ঘর-বাড়ি, গাছপালা, হাজার হাজার একর ফসলি জমি। সরেজমিন দেখা  গেছে, যমুনা নদীর পানি বাড়ছে, নৌ-বন্দর গুঠাইল বাজার সংলগ্ন বাঁধটি এখনো অরক্ষিত। কিছু জিও ব্যাগ ছিঁড়ে ফেটে পড়ে আছে।  যে কোনো সময় বাজার রক্ষা বাঁধটি ধসে পড়লে বাজারটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে বাজার ব্যবসায়ী আসাদুল, আব্দুল করিম, শাহীন বলেন, এবার ভাঙন শুরু হলে বাজারটি যমুনায় বিলীন হয়ে যাবে। এতে হাজার হাজার ব্যবসায়ী পথে বসবে।

এ ব্যাপারে জামালপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী নবকুমার বলেন, প্রকল্প পাস হতে অনেক দেরি হয়ে থাকে। দেরির জন্য বর্ষা এলে ভাঙন শুরু হয়। তাই ভরা নদীতে ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলে রোধ করা হয়ে থাকে। তিনি আরো  জানান, গুঠাইল বাজার বাঁধ থেকে কুলকান্দি পর্যন্ত ৩৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে যমুনার তীর সংরক্ষণ কাজের একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদনের অপেক্ষায় পড়ে রয়েছে। অনুমোদন পেলে কাজ করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

নূহু/ইত্তেফাক