ফিলিপাইনে জঙ্গি সংকট: মারাওয়ি শহরের বাসিন্দারা অবরুদ্ধ

আপডেট : ০৬ জুন ২০১৭, ২০:৫০
গত দুই সপ্তাহ ধরে ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মারাওয়িতে ইসলামি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে দেশটির সেনাবাহিনী। জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ১৭০ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ জনই বেসামরিক নাগরিক। 
 
জঙ্গি-সেনা সংঘর্ষে সেখান থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে গেছে প্রায় ২ লাখ সাধারণ মানুষ। পালিয়ে আসা এসব মানুষের অনেকেই তাদের কষ্টের দিনগুলোর কথা বর্ণনা করলেন। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোড়িত অনপারো লাসলোর ঘটনা। খ্রিস্টান এই নারী উদ্ধার হওয়ার পর বর্ণনা করলেন ৬ সন্তানকে নিয়ে তিনি সেখানে কিভাবে একটি ভবনের বেইসমেন্টে লুকিয়েছিলেন।
 
অনপারো বলেন, প্রতিমুহূর্তে তিনি আতঙ্কে ছিলেন ছিলেন কখন তাদের ইসলামি জঙ্গিরা এসে ধরে নিয়ে যায়। কেননা তার সন্তানেরা ক্ষুধার জ্বালায় কিছুক্ষণ পরপরই কান্না শুরু করে দিত। এ আতঙ্ক তাকে সব সময় তাড়া করে ফিরত। ১১ দিন তাদের সেখান রীতিমতো না খেয়ে থাকতে হয়েছে। তিনি বলেন, আশেপাশের থেকে কদাচিৎ একটা ছোট পাত্রে করে সামান্য ভাত আসলেও তা ছিল খুবই সামান্য। তা দিয়ে তাদের কিছুই হতো না। 
 
তিনি বলেন,কষ্টের এই অবস্থা বাকি অন্যদেরও একই ছিল। তিনি বলেন,এসব কথা বলতে গেলে আমার কান্নায় চোখ ভিজে আসছে। আমি আর এরচেয়ে বেশি কিছু বলতে পারবো না। সেখানে শুধু তারা নন, আরো ৭০ জন খ্রিস্টান নাগরিকও ছিলেন। বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সংবাদদদা জোনাথন হেড মারাউয়ি থেকে লিখেছেন এসব কথা। 
 
জোনাথন বলেন, এরমধ্যে অনপারোর ঘটনা খুবই মর্মস্পর্শী। তার ছয় সন্তানই না খেতে পেরে প্রায় কঙ্কালসার হয়ে গেছে। তাদেরকে আসার পর পানি আর বিস্কুট খেতে দেওয়া হয়,কিন্তু শিশুরা কিছুই খেতে পারছিল না। মনে হচ্ছিল তাদের যেন খাদ্য নালী শুকিয়ে গেছে। তিনি বলেন, ওই এলকায় বহু খ্রিস্টান নাগরিক রয়েছে। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। অনেককেই নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। অন্য একজন মুসলিম মা তার 
আতঙ্কের কথা জানালেন। 
 
তিনি বললেন, এই বুঝি তার ১৪ বছরের কিশোর ছেলেকে জঙ্গিরা জোর করে তাদের দলে ভেড়াতে নিয়ে গেল। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা এর আগে অনেক ঘটেছে। তাই এই আতঙ্ক তাকে সবসময় তাড়া করে ফিরেছে। তিনি বলেন, অনেক কৌশলে তিনি তাদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। আনপারো বলেন, স্থানীয় মারানাও জাতি গোষ্ঠীর নেতা নরোদিন অলোন্তো লুসম্যান তাকে পালিয়ে আসতে সাহায্য করেছিলেন। বিবিসি।
 
ইত্তেফাক/সাব্বির