লাকসামে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেছে। এ সময় তারা ভাংচুরের ঘটনাও ঘটায়। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় লাকসাম বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে লাকসাম পৌরসভা ও উপজেলা ছাত্রদলের পুরাতন কমিটি ভেঙ্গে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনার জের ধরে রাতে পদবঞ্চিতরা বিএনপির একাংশের নেতা আবুল কালাম প্রকাশ ও চৈতি কালামের অফিসে হামলা ও ভাংচুর চালায়। এ সময় তারা লাকসাম বাজারে বিক্ষোভ মিছিলও বের করে।
লাকসাম পৌরসভা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক রাজু জানান, দীর্ঘ দিন আমরা আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে কাজ করে যাচ্ছি। হঠাৎ করে আবুল কালাম তার অনুসারীদের দিয়ে একটি পকেট কমিটি গঠন করেছেন। এ কমিটি ছাত্রদলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা কোন ভাবেই মেনে নেবেনা। তাই তারা ক্ষুদ্ধ ও বিক্ষুদ্ধ। জেলা কমিটি ও কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে অচিরেই সরকার দলীয় এজেন্ট আবুল কালামের কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের জন্য কাউন্সিল দিতে অনুরোধ জানাই।
এ দিকে আবুল কালামের অফিসে হামলার বিষয়ে তার একান্ত অনুসারী আবদুর রহমান বাদল জানান, যারা আবুল কালামের অফিসে হামলা করেছে তারা বিএনপির কেউ নয়। এটি একটি অপ্রীতিকর ঘটনা।
উল্লেখ্য, এক সময় বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য কর্নেল (অবঃ) আনোয়ারুল আজিম ও শিল্পপতি আবুল কালাম চৈতি কালামের মধ্যে গ্রুপিং বিদ্যমান ছিলো। ওই সময় দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে হামলা মামলা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে কালাম গ্রুপ অনেকটা দূর্বল হয়ে আজিম গ্রুপের সঙ্গে মিলে যায়।
এদিকে ২০১৩ সালে ২৭ নভেম্বর আজিম গ্রুপের বিনএনপির দুই শীর্ষ নেতা সাইফুল ইসলাম হিরু হুমায়ুন কবির পারভেজ নিখোঁজ হলে আবারো রাজনীতিতে কালাম গ্রুপ মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। তারা আজিমগ্রুপের সদস্যদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা চালাতে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় কাউন্সিল ছাড়া ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা দেয়ায় বিক্ষুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
ইত্তেফাক/নূহু
