অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় যুক্তরাজ্য

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৭, ০১:২৯

অংশগ্রহণমূলক জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেক। গতকাল মঙ্গলবার তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সঙ্গে সাক্ষাত্ করে দেশটির এমন অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, তারা বাংলাদেশের আগামী সংসদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক দেখতে চায়। অবশ্য ইসি সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, কমিশনও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির মাধ্যমে সকল দলের অংশগ্রহণমূলক ও দেশি-বিদেশি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চায়।

যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে যান। তাদের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা আলোচনা হয়। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন যুক্তরাজ্য হাইকমিশনের রাজনৈতিক শাখার প্রধান অ্যাড্রিন জোন্স, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এজাজুর রহমান ও ইউকে এইড এর প্রতিনিধি আইসলিন বেকার। সাক্ষাতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাত্ শেষে অ্যালিসন ব্লেক সাংবাদিকদের বলেন, সব দলের অংশগ্রহণে আগামী সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু দেখতে চায় যুক্তরাজ্য। এখানে আমরা কারো পক্ষ হয়ে আসিনি। আমরা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার জন্য এসেছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তি ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিতকরণ এবং এ লক্ষ্যে যারা কাজ করছেন তাদের পক্ষে সমর্থন জানানোর জন্য আমরা এসেছি। কমিশনের সঙ্গে ভালো আলোচনা হয়েছে। আগামী সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তবে এ সময় সাংবাদিকদের অনেক  প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার।

সাক্ষাতের বিষয়ে ইসি সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, এটা সিইসির সঙ্গে তার প্রথম ও সৌজন্যমূলক সাক্ষাত্। আলোচনায় যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার আমাদের পুরনো কিছু নির্বাচনের নেতিবাচক দিক তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণ না থাকার বিষয়টি তাদের আলোচনায় উঠে এসেছে। এ ছাড়া দু’একটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সহিংসতার কথা তারা জানিয়েছেন। জবাবে সিইসি তাদের বলেছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পরে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছেন। নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন কেবল দেশে নয়, সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। এ সময় হাইকমিশনার বলেছেন, এভাবে অন্যসব নির্বাচন করতে পারলে ইসির গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।

যুক্তরাজ্যের দূত নির্বাচনের বড় চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাই বড় চ্যালেঞ্জ। সিইসি প্রত্যাশা করেছেন জুলাই থেকে তারা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শুরু করবেন। এতে করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার দূরত্ব করে আসবে, ইসির প্রতি তাদের আস্থা বাড়বে। আশা করি সকল দল নির্বাচনে অংশ নেবে।

প্রসঙ্গত, আগামী ১১ জুন ইউএনডিপির কান্ট্রি ডিরেক্টর ও ২০ জুন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর সিইসির সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু