বাপেক্সের ২৪৮ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:৫৩

বাপেক্সের ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের পুরো কাজ বিনা টেন্ডারে করেছে একটি কোম্পানি। ২৪৮ কোটি টাকার এই প্রকল্পে বেশকিছু অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে পেট্রোবাংলার তদন্ত কমিটি। বিনা টেন্ডারে দেওয়া কাজের অনিয়ম খতিয়ে দেখতে অধিকতর তদন্তের উদ্যোগ নিচ্ছে জ্বালানি বিভাগ। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভির এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

বাপেক্স একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি। দেশের স্থলভাগে নয়টি স্থানে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ করার প্রকল্প হাতে নেয় সংস্থাটি। প্রায় আড়ইশো কোটি টাকার প্রকল্প এলাকা দুই হাজার ৭০০ বর্গকিলোমিটার। এর ৯১ ভাগের কাজ শেষ। তাতে ব্যয় ১৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। প্রকল্পের বাকি ৯ ভাগের জন্য বরাদ্দ ৫ কোটি ২১ লাখ টাকা। এই হিসাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে তদন্ত কমিটির রিপোর্টে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরের ১২ মাসই কাজ করেছে বাপেক্স। ১২শ লোক প্রতিটি প্রকল্পে কাজ করেছে যদিও এসব এলাকার আকার ভিন্ন। অথচ প্রতিটি প্রকল্পে একইসংখ্যক কর্মী ও যানবাহন ব্যবহারের কথা বলেছে বাপেক্স। জরিপে ব্যবহূত সফটওয়্যার আগেই কেনা হয়েছিল অন্য দুটি গ্যাসক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য। কোনো বিক্রয়োত্তর সেবা ছাড়াই কাগজে-কলমে আবারো এগুলো কিনেছে সংস্থাটি। লোকবল, যন্ত্রপাতি সফটওয়্যারও বাপেক্স বিনা দরপত্রে নিয়েছে আরিফ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে।

এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেখা যাচ্ছে এখানে এক ধরনের প্রতারণা ও জালিয়াতি রয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বছরের ৩৬৫ দিন একইভাবে কাজ করার সামর্থ্য থাকার সুযোগ নেই। এটা অসম্ভব। এ ধরনের প্রতারণামূলক ব্যয় যদি হয়ে থাকে তাহলে সেখানে কোনো বিশেষ মহল সুবিধা নিয়েছে।

এ বিষয়ে জ্বালানি ও বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, এ বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। মন্ত্রণালয় থেকে অধিকতর তদন্ত করতে চাই আমরা।

বিশ্লেষক অধ্যাপক বদরুল ইনাম মনে করেন, এক্ষেত্রে দুর্নীতি লাগামছাড়া। তিনি বলেন, দুর্নীতি আছে, হচ্ছে এবং এটা প্রকট। এই দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে জ্বালানি খাত কখনোই ঠিকভাবে চলবে না। আরো নাজুক হবে। প্রসঙ্গত, এই ত্রিমাত্রিক ভূ-কম্পনের ফলাফল থেকেই ভোলায় দেশের ২৭তম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছিল বাপেক্স।