দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে রেকর্ড করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০১৯-২০ অর্থ বছরে মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) বাংলাদেশ ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। মূলত বেসরকারি খাতে ভোগব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধি ছাড়াও শিল্পের প্রসার এই অর্জনে মূল ভূমিকা রাখবে। তবে ব্যাংকিং খাতে অদক্ষতা ও সুশাসনের অভাব রয়েছে। দেশের ব্যাংকিং খাতকে আরো শক্তিশালী করা, অবকাঠামোর দুর্বলতা দূর করাসহ ব্যবসা করার পরিবেশ আরো উন্নত করার তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি পর্যালোচনা করে তৈরি করা ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক’ প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
গতকাল বুধবার সদস্য দেশগুলোতে একযোগে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে এডিবি। সংস্থার ঢাকাস্থ কার্যালয়ে প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অংশ প্রকাশ করা হয়। এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশের উপস্থিতিতে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সংস্থার অর্থনীতিবিদ সুন চ্যান হং। প্রতিবেদনে তিনি বলেন, প্রবাসী আয়ের গতি পুনরুদ্ধারের সুবাদে বেসরকারি পর্যায়ে ভোগ চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামো খাতে সরকারের ধারাবাহিক বিনিয়োগের ফলে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও কৃষি খাতে দ্রুত উন্নতি হয়েছে। রফতানি আয় বৃদ্ধির বিষয়টিও ভূমিকা রেখেছে প্রবৃদ্ধিতে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের ছয় মাসের গতি-প্রকৃতি পর্যালোচনা করে এবার ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলে জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
সরকারের প্রাক্কলনের সঙ্গে এডিবির পূর্বাভাসের পার্থক্যের কারণ জানতে চাইলে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে গত অর্থ বছর সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বিশ্বে দ্রুততম প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। আট শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন বাংলাদেশের জন্য গর্বের। তবে এ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
মূল উপস্থাপনায় আরো বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের অভাব রয়েছে। এই খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নতি টেকসই করতে আগামীতে শিল্পের ভিত্তি বাড়াতে হবে। বৈচিত্র্য আনতে হবে রপ্তানি পণ্যে। ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ ধরে রাখতে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে হবে। করের আওতা বাড়িয়ে সরকারের ব্যয়ে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে হবে। ব্যক্তি খাতের চাহিদা মেটাতে মানবসম্পদেও উন্নয়ন করতে হবে। ব্যাংকিং খাতের সংস্কারেও গুরুত্ব দিতে হবে।
এতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের হার বেশি। বিনিয়োগের তুলনায় লাভের হার কম। এখানে সুশাসন ব্যবস্থাও দুর্বল। এর ফলে বাড়ছে মূলধন ঘাটতির প্রবণতা। ব্যাংকিং খাত পরিচালনায় ও আইনি কাঠামোয় বড় ধরনের অদক্ষতা রয়েছে বলেও মনে করে এডিবি। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতে দুর্বলতা কাটাতে নেওয়া আগের অনেক উদ্যোগ সফল হয়নি। ব্যাংক আইন সংশোধন, ব্যাংকে বিশেষ নিরীক্ষা ও ঋণের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা গাইড লাইনে কিছুটা সফলতা এসেছে। উন্নতি ধরে রাখতে আগামীতে বিদ্যমান ব্যাংক আইনের কঠোর প্রয়োগ, করপোরেট সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ঋণের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা যাচাই করা, সরকারি ব্যাংকে একীভূতকরণের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে এডিবি। জাতীয় পর্যায়ে সম্পদ ব্যবস্থাপনায় একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলারও পরামর্শ দিয়েছে এডিবি।
