পারিবারিক বিরোধে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় দুই সন্তানের জননী নুরে হাফসাকে (৩৫) তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন পিটিয়ে মারাত্মক জখম করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার গালিমপুর ইউনিয়নের মুসলিমহাটি গ্রামে বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। হাফসা ওই এলাকার মুস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী। এ ঘটনায় এক আসামিকে আটকের পর পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে বলে ওই গৃহবধূর পরিবার অভিযোগ করেছেন।
আহত গৃহবধূ হাফসা জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে শ্বশুরের জমির ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে তার দেবর রাসেলের (২৮) সাথে হাফসা ও তার স্বামীর ঝগড়া হয়। সে সময়ে তার শাশুড়ি ফিরুজা (৬০) তার মেয়ের বাড়িতে ছিলেন। ঝগড়ার খবর শুনে শাশুড়ি তার দুই মেয়ে কনা, লাভলী ও মেয়ের জামাই আরিফকে (৪০) সাথে নিয়ে রাতে বাড়িতে আসে। তারপর তারা একজোট হয়ে হাফসা ও তার স্বামীর সঙ্গে ফের ঝগড়া বাধায়। হাফসা বলেন, ঝগড়ার একপর্যায়ে আমার ছোট ননদ ও দুলাভাইয়ের নির্দেশে আমার চুলের মুঠি ধরে আমাকে প্রথমে মাটিতে শুইয়ে ফেলা হয়। তারপর তারা সকলে মিলে আমাকে লাঠি, ঝাড়ু ও ইট দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে পিটিয়ে জখম করে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, হাফসার স্বামী মুস্তাফিজুর শারীরিক অসুস্থ। সে কারণে তিনি তার স্ত্রীকে রক্ষায় এগিয়ে যেতে পারেননি।
হাফসার ভাই মনির খান বোনের আহত হওয়ার খবর পেয়ে তার শ্বশুর বাড়িতে ছুটে যান। বোনের অবস্থা গুরুতর দেখে তিনি তাকে নবাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই মনির বাদী হয়ে শাশুড়ি ফিরুজা (৬০), দেবর রাসেল (২৮), ননদের জামাই আরিফ (৪০) ও দুই ননদ কনা ও লাভলীকে আসামি করে নবাবগঞ্জ থানার গালিমপুর তদন্তকেন্দ্রে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। নবাবগঞ্জ থানার গালিমপুর তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই আল-নূর তারেক জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর গভীর রাতে পুলিশ হাফসার শ্বশুর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরিফকে আটক করে। এ সময় তার দেবরসহ অন্য আসামিরা অন্যত্র থাকায় তাদের আটক করা যায়নি। আরিফকে আটকের পর পুলিশ তাকে তদন্তকেন্দ্রে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদকালে সে কিডনিতে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করে এবং একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিত্সার জন্য তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
