টিউলিপ কি ধরে রাখতে পারবেন তার আসন?

আপডেট : ০৮ জুন ২০১৭, ০১:২৪

ব্রিটেনের সদ্য ভেঙে দেওয়া পার্লামেন্টে যে তিনজন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি এমপি ছিলেন, তাদের একজন হচ্ছেন লেবার পার্টির টিউলিপ সিদ্দিক। তার আরেকটি পরিচয়, তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি। ২০১৫ সালে খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এক নির্বাচনে তিনি লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসন থেকে জয়ী হন। এই আসনের জন্য এবারের নির্বাচনে কী রকম প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে? তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছে বিবিসি।

মাত্র দুই বছর আগের নির্বাচনে হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসন থেকে প্রথম এমপি নির্বাচিত হন টিউলিপ। এই দুই বছরেই পার্লামেন্টে নানা ইস্যুতে সরব থেকে গণমাধ্যমের নজর কেড়েছেন তিনি। হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্নে একদিকে যেমন উচ্চ মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্তের বাস, অন্যদিকে অনেক দরিদ্র মানুষও আছেন এখানে। আছেন হাজার খানেক বাংলাদেশি ভোটারও। কিলবার্নের একটি মসজিদ-কাম-কমিউনিটি সেন্টারে জড়ো হয়েছিলেন এ রকম কিছু বাংলাদেশি ভোটার এবং লন্ডনের বাংলা গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা। সেখানে টিউলিপ সিদ্দিক কথা বলেন তাদের সঙ্গে। গত বছর ব্রিটেনে যখন ব্রেক্সিট গণভোট হয়েছিল, তখন এই এলাকার প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ এর বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। টিউলিপ সিদ্দিক নিজেও ছিলেন ব্রেক্সিটের বিপক্ষে। টিউলিপ স্বীকার করলেন, তার নির্বাচনী প্রচারণায় এই ব্রেক্সিটের ইস্যু বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি কি আশা করছেন যে, ব্রেক্সিটের বিপক্ষে নেওয়া জোরালো অবস্থান তাকে ভোটে জিততে সাহায্য করবে?

এই ইস্যুটা আমাকে বেশ সাহায্য করছে। মানুষ জানে যে আমি ওয়েস্টমিনস্টারে ঢুকে আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষকে ভুলে যাইনি। ইনশাল্লাহ মানুষ এসব মনে রাখবে।

হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্নের এই আসনটি বারবার হাত বদল হয়েছে লেবার এবং কনজারভেটিভ পার্টির মধ্যে। গেলবার টিউলিপ সিদ্দিক এই আসন জিতেছিলেন মাত্র এক হাজার ১৩৮ ভোটে। কনজারভেটিভ পার্টি যেসব আসন লেবার পার্টির কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য টার্গেট করেছে, তার একটি হচ্ছে এই আসন।

কিলবার্নেরই আরেকটি এলাকার এক কমিউনিটি সেন্টারে সন্ধ্যায় সব প্রার্থীকে নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে এক মুখোমুখি বিতর্কের। সেখানে হাজির টিউলিপ সিদ্দিকের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টির ক্লেয়ার লুইস লেল্যান্ড। তিনি খোলাখুলিই স্বীকার করলেন, নির্বাচনী ফল যে কোনো দিকেই যেতে পারে, তাই প্রতিটি ভোটের জন্যই লড়তে হচ্ছে তাকে। ২০১৫ সালে এটি ছিল এক হাজার ১৩৮। তার আগের বার ছিল মাত্র ৪২ ভোট। এ কারণেই আমরা প্রত্যেকটি এলাকায় যাচ্ছি, প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলছি।

ক্লেয়ার লুইস তার প্রতিদ্বন্দ্বী টিউলিপ সিদ্দিককে কীভাবে দেখেন? উত্তরে তিনি বলেন, আমি আর টিউলিপ আসলে পরস্পরকে জানি বেশ কিছুদিন ধরে। ২০১০ সাল থেকে আমরা স্থানীয় কাউন্সিলে এক সঙ্গে কাজ করেছি। তবে আমি আজকে পত্রিকায় দেখলাম টিউলিপ আমাকে থেরেসা মের ‘চামচা’ বলেছে। আমার মনে হয় এটা আমার প্রতি অন্যায়— হেসে বললেন ক্লেয়ার লুইস।

অভিবাসন বিরোধী কট্টর ডানপন্থি দল ইউকিপ গেলবার এই আসনে পেয়েছিল প্রায় দেড় হাজার ভোট। তারা এবার প্রার্থী না দেওয়ায় টিউলিপ সমর্থকরা চিন্তিত যে এদের ভোট হয়তো কনজারভেটিভদের বাক্সে যাবে। স্থানীয় এক লেবার কাউন্সিলর পারভেজ আহমেদ বলেন, ইউকিপের ভোট যদি কনজারভেটিভরা পায়, তাহলে আমাদের দেড় হাজার ভোটের যে ব্যবধান, সেটা তো আর থাকে না। তাই আমরা একটু চিন্তিত। সে জন্যে আমরা আরও জোরেশোরে কাজ করছি।

ইত্তেফাক/নূহু