ময়মনসিংহে চার হাজার ইজিবাইক জব্দ

আপডেট : ০৮ জুন ২০১৭, ১৭:১৮
 
ময়মনসিংহ শহরের যানজট কমানোর লক্ষ্যে চার হাজার ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক জব্দ করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট নিয়মের আওতায় আনার জন্য এসব ব্যাটারিচালিত যান জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি ময়মনসিংহ পৌরসভার।
 
জব্দ করা ইজিবাইকের মধ্য থেকে পরে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ইজিবাইককে শহরে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। কিন্তু এদিকে এই সুযোগে রিকশা, অটোরিকশা চালকরা দিগুণ থেকে চারগুণ হারে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে। এ নিয়ে যাত্রী ও চালকদের সাথে প্রতিদিনই হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।
 
এদিকে ময়মনসিংহে ইজিবাইক না থাকায় মোটরচালিত রিকশা নগরীর প্রতিটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। অল্প সংখ্যক রিকশা থাকলেও তারা ভাড়া হাঁকছেন আকাশচুম্বী। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে অফিসমুখী সাধারণ মানুষ। সকালে সন্তানদের স্কুলে দিতে গিয়ে অভিভাবকরা পড়ছেন বিপাকে। রিকশা ফেলে পায়ে হেঁটে যেতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। তাতে শিশু শিক্ষার্থীরা হাঁপিয়ে উঠছে।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, নগরীর যে স্থানগুলোতে রাস্তা থেকে যাত্রী তুলতে তিন চাকার ব্যাটারিচালিত গাড়ি ইজিবাইক গিজগিজ করতো সেই স্থানগুলো দখল করে নিয়েছে রিকশা। বর্তমানে শহরের পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি এর লোকসংখ্যা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে।
 
জেলার ত্রিশাল থেকে আশা ব্যাটারিচালিত রিকশা চালক আকবর হোসেন এর সাথে কথা বলে জানা যায়, গ্রামে রিকশা চালালে দিনে একশ' থেকে দেড়শ' টাকার বেশি আয় করা যায় না। আর শহরে প্রতিদিন রিকশা চালালে আয় হয় ছয়শ' থেকে সাতশ' টাকা বেশি আয় করা যায়।
 
প্রসঙ্গত, ময়মনসিংহ শহরের যানজট নিরসনে পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিন চাকার ব্যাটারিচালিত গাড়ি ইজিবাইক গত বৃহস্পতিবার থেকে নগরীর রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়ামে জড়ো করে লাল ও সবুজ রং করে এবং পুরনো লাইসেন্স নবায়ন করে চলাচলের অনুমতি দেয়া হচ্ছে। তবে জব্দ হওয়া চার হাজার ইজিবাইকের মধ্যে ৬০৯টি বৈধ ও তিন হাজারের বেশি অবৈধ।
 
অনুমোদনহীন ইজি বাইকের ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানা গেছে। জব্দকরা অটোরিকশার মধ্য থেকে শহরে প্রতিদিন দুই হাজার অটো রিকসা চলাচলের অনুমতি দেয়া হবে। একদিন চলবে লাল কালার, অন্যদিন চলবে সবুজ কালারের অটোরিকশা। শহরের অটোরিকশা শহরেই থাকবে। বাহিরের রিকশা শহরে প্রবেশ করতে পারবেনা বলে সংশ্লিষ্টরা জানায়।
 
ইত্তেফাক/জামান