স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম চিকুনগুনিয়া বিস্তার প্রতিরোধে এডিস মশা ও এর লার্ভা নিধনের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম অব্যাহত রাখার জন্য ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জুম্মা ও তারাবির নামাজের সময় যার যার নিকটস্থ পরিবেশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য জনগনকে সচেতন করতে ইমামদের প্রতি বিশেষ বয়ান প্রদানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চিকনগুনিয়ার বিস্তার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে কার্যক্রম গ্রহণে জনপ্রতিনিধদের ভূমিকা রাখতে হবে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে চিকুনগুনিয়া বিস্তার প্রতিরোধ সংক্রান্ত সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এসব আহ্বান জানান। সভা চলাকালে ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তর ও দক্ষিণের মেয়র এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের সাথে টেলিফোনে কথা বলে জনসচেতনতা বাড়ানোর কার্যক্রম গ্রহণের অনুরোধ করেন তিনি।
সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আইইডিসিআর কর্তৃক সম্প্রতি পরিচালিত গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে ঢাকা শহরের ২৩টি এলাকাকে চিকনগুনিয়ার জন্য অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, রাজধানীর এই ২৩টি এলাকায় চিকনগুনিয়ার বাহক মশার ঘনত্ব বেশি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করার জন্য নির্দেশ প্রদান করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাড়িঘরের মধ্যে অনেক সময়ে দীর্ঘ দিন পানি জমে থাকে ফলে সেখানে এডিস মশার উৎপত্তি হতে পারে। তাই বাড়ির ভিতরে, বাড়ির ছাদে যেন পানি জমে না থাকে সে দিকে জনগনকে খেয়াল রাখাতে হবে।
প্রয়োজনে বাড়ির ভিতর গিয়ে মশা নিধন কর্মসূচি চালাতে সিটি কর্পোরেশনের লোকদেরকে সহযোগিতা করার জন্য বাড়ির মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। নিধন কর্মসূচিকে বেগবান করতে এনজিও, স্কাউটদের সহায়তা নেওয়ারও পরামর্শ দেন মন্ত্রী।
সভায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রাণলয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/ইউবি
