অস্তিত্ব সংকটে সাতক্ষীরার এক সময়ের প্রমত্তা প্রাণসায়ের খাল

আপডেট : ০৯ জুন ২০১৭, ০৫:২৩

সাতক্ষীরা জেলা শহরের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত এক সময়ের প্রমত্তা প্রাণসায়ের খাল আজ অস্তিত্ব সংকটে। খালের দুই মুখে অপরিকল্পিত স্লুইস গেট নির্মাণ, প্রাণসায়েরের দুই তীর জবরদখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতি স্থাপন, ময়লা-আবর্জনা ফেলাসহ নানা কারণে খালটি জেলা শহরের মানুষের কাছে অভিশাপে পরিণত হয়েছে। খালের পচা দুর্গন্ধে এলাকার পরিবেশ দূষিত হয়ে উঠেছে।

১৮৬৫ সালে অবিভক্ত বাংলার সাতক্ষীরার জমিদার প্রাণনাথ রায় শিক্ষার প্রসার ঘটাতে পিএন হাই স্কুল এণ্ড কলেজ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার্থে প্রাণসায়ের খাল খনন করেন। সদর উপজেলার খেজুরডাঙ্গি থেকে সাতক্ষীরা শহর হয়ে এল্লারচর পর্যন্ত এ খালের দূরত্ব প্রায় ১৩ কি.মি। প্রথমাবস্থায় এ খালের দুইশ ফুটের বেশি চওড়া ছিল। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সে সময় বড় বড় ব্যবসায়িক নৌকা এসে ভিড় জমাতো এ খালে। ফলে সাতক্ষীরা শহর ক্রমশ সমৃদ্ধশালী শহরে পরিণত হয়।

১৯৮৩ সালে সাতক্ষীরা মহকুমা শহর থেকে জেলা শহরে রূপান্তরিত হয়। ১৯৬৫ সালের প্রথম দিকে স্থানীয় জনগণের মতামতকে প্রাধান্য না দিয়ে বন্যা প্রতিহত করার নামে দুই প্রান্তে পানি উন্নয়ন বোর্ড স্লুইস গেট নির্মাণ করে খালের স্বাভাবিক জোয়ারভাটা বন্ধ করে দেয়। এতে এটি বদ্ধ খালে পরিণত হয়।

এরপর জলবায়ু ট্রাস্ট ফাণ্ডের আওতায় ৯২ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় ১০ কি.মি খাল সংস্কারের টেন্ডা৯র পায় ঢাকার মেসার্স নিয়াজ ট্রেডার্স। ২০১২ সালের ১৮ অক্টোবর থেকে প্রাণসায়ের খাল খনন শুরু করে। কিন্তু নামমাত্র খনন করে প্রকল্পের বেশির ভাগ টাকাই লোপাট করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা। খাল খননের নামে খালের দুই ধারের শত শত গাছ কেটে ফেলা হয়। বর্তমানে এটি বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা ফেলার স্থানে পরিণত হয়েছে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিএম আব্দুল মোমিন বলেন, প্রাণসায়ের খাল সংস্কারের জন্য পাঁচ বছর আগের সিডিউলের সঙ্গে বর্তমানের সিডিউলের মিল না থাকায় ঠিকাদাররা কাজ করতে আগ্রহী হবেন না। খালটি জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় হওয়ায় চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/নূহু