পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের টেন্ডার বাগাতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রভাব ব্যবহার করছে (পবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আনিসুজ্জামান আনিস ও সাধারণ সম্পাদক রায়হান আহমেদ রিমন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের টেন্ডারবাজি নিয়ে ইত্তেফাকের করা অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর তথ্য। পবিপ্রবিতে টেন্ডার বাগানোর কাজে জুনিয়র কর্মীদের ব্যবহার করছেন ছাত্রলীগ নেতারা।
ইত্তেফাকের কাছে সংরক্ষিত থাকা টেন্ডার ভাগাভাগির একাধিক ভিডিও ফুটেজে এসব তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের টেন্ডার ভাগবাটোয়ারা করতে পবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক আনিসুজ্জামান আনিস ও সাধারণ সম্পাদক রায়হান আহমেদ রিমনের নেতৃত্বে বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী ইউনুস শরীফকে তার নিজ কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ। এ সময় সেখানে তুমুল বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রায়হান আহমেদ রিমন বলেন, ‘তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।’ এসময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আনিসুজ্জমান আনিস বলেন,‘এটাই বাংলাদেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে ছাত্রলীগ টেন্ডার চেয়েও পায়না। ছয় মাস বসে যদি ছাত্রলীগ একটাও কাজ না পায় তাহলে তো ক্যাম্পাসে চুরি পড়ে ঘুরতে হবে। আমাদের কমিটি চলে গেলেও আমি এ বিষয়ে কোন ছাড় দিতে পারবো না।’
পরে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রিমন বলেন, ‘আমি সকালেও এখানে এসেছি। আপনার সাথে (প্রকৌশলীর সাথে) কোন বাজে ব্যবহার করিনি। কিন্তু কাজ আমাদের লাগবেই।’
প্রায় আট মিনিট কথা কাটাকাটির পর সমঝোতার প্রস্তাব দিয়ে প্রকৌশলী ইউনূছ শরীফ বলেন,‘আমি তোমাদের (ছাত্রলীগকে) তিনটা প্রস্তাব দিয়েছি। প্রথম দুইটা দিয়েছি এক ধরনের আর তিন নম্বরটা হল আমাকে গুলি করে মেরে ফেল।’
এসময় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রায়হান আহমেদ রিমন বলেন, ‘আমরা প্রথম দুইটার একটা মানি। কাকা, এই ইঙ্গিতটা আমাদের সকালে দিলেও তো এত কিছু হত না।’
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রকৌশলী ইউনূস শরীফ প্রথমে বলেন, এরকম ঘটনা প্রায় ই ঘটে । তাই প্রস্তুত ও থাকি। তবে আপনারা যা বলছেন সেগুলো মনে করতে পারছি না। পরে মনে করানোর জন্য তাকে ভিডিও ফুটেজ দেখানো হলে বলেন, এখন মনে পড়ছে। কাজটি যারা গ্রহণযোগ্য তাদেরকেই দেয়া হয়েছে। এ সময় তিনি আরো বলেন, এ নিয়ে আপনারা কোন নিউজ ছাপাবেন না এবং ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে সব সময় পজিটিভ নিউজ করার পরামর্শ দেন। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে তার দেয়া প্রথম প্রস্তাব দুটোর কথা জানতে চাইলে বলেন, ওগুলো আমি ভুলে গেছি।
বক্তব্য নিতে পবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক আনিসুজ্জামান আনিস ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রায়হান আহমেদ রিমনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা কেউ ফোন রিসিভ করেন নি। পরে তাদের মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোন উত্তর পাওয়া যায় নি।
ইত্তেফাক/এমআর
