ময়মনসিংহের গৌরীপুরে প্রকাশ্যে দুই যুবককে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত মাওহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রমিজ উদ্দিনকে শোকজ করেছে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তার।
বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ দেখে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ৭ জুন চেয়ারম্যান রমিজ উদ্দিনকে শোকজের চিঠি দেন তিনি এবং আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে চেয়ারম্যানকে যুবকদের নির্যাতনের বিষয় নিয়ে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুন রবিবার বিকেলে উপজেলার মাওহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রমিজ উদ্দিন বীরআহম্মদপুর গ্রামের রুকন মিয়া ও দীপ্ত নামের দুই যুবককে মাদকসেবী সন্দেহে নির্যাতন করে। এরমধ্যে রোকন নামের যুবককে একটি খুঁটির সঙ্গে দাঁড় করিয়ে পেছন দিক থেকে খুঁটিতে পা দিয়ে রোকনের দুই হাত পেছন দিকে টেনে ধরে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে চেয়ারম্যান রমিজের বিরুদ্ধে।
দীপ্তকে নাপিতের কাছে নিয়ে চুল কেটে দিতে বাধ্য করেন। শাস্তির পর চেয়ারম্যান ওই দুই যুবককে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেন। এদিকে চেয়ারম্যানের এই নির্যাতনের ছবি মুঠোফোনের ক্যামেরায় ধারণ করে এলাকার অনেকেই ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন। ইউপি চেয়ারম্যান রমিজ নিজেও এসব ছবি ফেসবুকে শেয়ার করেন। তবে ফেসবুকে প্রকাশিত নির্যাতনে ছবিতে অনেকেই শাস্তির ধরণ নিয়ে আপত্তি ও সমালোচনা করেন।
এদিকে দুই যুবককে নির্যাতনের বিষয়টি নিয়ে গত ৭ জুন মঙ্গলবার দৈনিক ইত্তেফাক সহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়। এরপর বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যানকে শোকজ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মর্জিনা আক্তার বলেন, 'বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবরটি প্রকাশের পর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে রমিজ উদ্দিন চেয়ারম্যানকে নির্যাতনের কারণ দর্শাতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তিনি লিখিত জবাব দিবেন। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নির্যাতনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' তাছাড়া একজন বিচারিক হাকিম চেয়ারম্যানকে তলব করেছেন বলে জানান তিনি।
ইত্তেফাক/জামান
