১০ বছরেও নির্মাণ হয়নি তেঁতুলবাড়িয়া বেড়িবাঁধ

আপডেট : ১১ জুন ২০১৭, ০২:৫০

‘এক সময় ফসলে পরিপূর্ণ থাকতো তেঁতুলবাড়িয়া কৃষি জমি। কিন্তু সিডরে বেড়িবাঁধ ভাঙার পর থেকে এখানে চাষাবাদ বন্ধ। এরপরে বহু কষ্টে যা কিছু ফসল ফলাই তাও এবার জোয়ারের পানিতে সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে’ অশ্রুশিক্ত চোখে এ কথাগুলো বলছিলেন, স্থানীয় কৃষক কবির মিয়া। এমন বোবাকান্না তালতলী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া এলাকার শত শত কৃষকের।

জেলার তালতলী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া বেড়িবাঁধটি ১০ বছরেও স্থায়ীভাবে নির্মাণ করতে পারেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে বিপদসীমার মধ্যে বসবাস করছেন দুই হাজারেরও বেশি মানুষ।

স্বাভাবিক জোয়ারের থেকে সামান্য পানি বাড়লেই প্লাবিত হয় তিনটি গ্রামের চার শতাধিক ঘর-বাড়ি। লবণ-পানিতে বার বার প্লাবিত হওয়ায় নষ্ট হয়ে গেছে ফসলি জমির গুণাগুণ। এতে অনেকেই ঘর-বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন অন্যত্র।

জানা যায়, ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরে তেঁতুলবাড়িয়ার বাঁধের বেশকিছু জায়গা ভেঙে যায়। এরপর নদীর অনবরত ভাঙনে বাঁধটি আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। এখন প্রতি মাসে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার সময় নদীর বাড়তি জোয়ারের পানিতে চার থেকে পাঁচদিন ধরে প্লাবিত থাকে ঘরবাড়ি-রাস্তাঘাট। বন্ধ হয়ে যায় রান্না-খাওয়া, দুর্ভোগের শেষ থাকে না এলাকাবাসীর।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আলম হাওলাদার জানান, বছর চারেক আগে বেড়িবাঁধটির সংস্কারের কাজ শুরু করলেও শেষ করার আগেই তা আবার ভেঙে যায় নদীগর্ভে। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত বেড়িবাঁধের আর কোনো সংস্কার করা হয়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান জানান, স্থায়ীভাবে বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য যে পরিমাণ অর্থ দরকার তেমন বরাদ্দ আসছে না। তাই বাধ্য হয়ে বরাবরের মতো বেড়িবাঁধ ভাঙার পর জরুরি মেরামতের বিকল্প নেই তাদের হাতে।

তবে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না করলেও কতবার জরুরি মেরামত কাজ করা হয়েছে এবং কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে তার কোনো হিসাব দিতে পারেনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের এ কর্মকর্তা।

ইত্তেফাক/নূহু