গাইবান্ধায় পুলিশ হেফাজতে কলেজছাত্রের মৃত্যু: ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ১১ জুন ২০১৭, ১৮:০০
 
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অপহরণ মামলায় গ্রেফতার হয়ে পুলিশ হেফাজতে কলেজছাত্র রিপন চন্দ্র দাসের (১৭) মৃত্যুর ঘটনায় চার পুলিশ ও এক ইউপি সদস্য সহ ১০জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।
 
ঘটনার ১০দিন পর রবিবার দুপুরে রিপন চন্দ্রের বাবা বাবলু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে গাইবান্ধার (পলাশবাড়ী) আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন।মামলার আসামিরা হলেন, সুন্দরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রাজু আহম্মেদ, পুলিশ কনস্টেবল শাহানুর আলম, মোস্তাফিজার রহমান, নার্গিস বেগম, ইউপি সদস্য মোন্তাজ উদ্দিন, সুন্দরগঞ্জ থানার হাতিয়া গ্রামের সুরেশ চন্দ্র, তার মেয়ে চম্পা রানী, একই গ্রামের আলম মিয়া, অমল চন্দ্র ও রতন চন্দ্র।
 
গাইবান্ধা আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. জামাল উদ্দিন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওই আদালতের বিচারক মো. জয়নুল আবেদীন মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন।
 
তিনি মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে আরো জানান, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হাতিয়া গ্রামের বাবলু চন্দ্র দাসের ছেলে রিপনের সঙ্গে প্রতিবেশী সুরেশ চন্দ্র দাসের মেয়ে চম্পার প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। দুজনে গত ২৯ মে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে বগুড়ার কাহালুতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বিয়ে করেন।
 
এঘটনায় চম্পার বাবা সুরেশ চন্দ্র বাদী হয়ে অপহরণের অভিযোগে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। পরে সুন্দরগঞ্জ থানার এসআই রাজু আহমেদের নেতৃত্বে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোন্তাজ উদ্দিনসহ সঙ্গীয় পুলিশ নিয়ে অভিযান চালিয়ে ১জুন দুপুরে কাহালুর ওই আত্মীয়ের বাসা থেকে চম্পাকে উদ্ধার ও রিপনকে গ্রেফতার করে। এরপর তাদেরকে মাইক্রোবাসে করে কাহালু থেকে সুন্দরগঞ্জ থানায় নিয়ে আসা হচ্ছিলো। পথে পুলিশ ও ইউপি সদস্য মোন্তাজ উদ্দিনের পরোক্ষ সহযোগিতায় রিপনকে মাইক্রোবাসে গলাটিপে হত্যা করে। এরপর পুলিশ ট্রাকচাপায় রিপনের মৃত্যুর বিষয়ে অপপ্রচার চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
 
সুন্দরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মো. রাজু আহম্মেদের দাবি, রিপন প্রস্রাব করার কথা বললে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার জুনদহ এলাকার মহাসড়কের উপর তাকে নামানো হয়। কিন্তু রিপন প্রস্রাব শেষ না করেই দৌড়ে পালাতে গিয়ে দ্রুতগামী ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মহাসড়কে পড়ে যায়। তখন দ্রুত তাকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। এ ঘটনায় পলাশবাড়ী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
 
সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আতিয়ার রহমান জানান এ ঘটনার পর সুন্দরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মো. রাজু আহম্মেদ, পুলিশ কনস্টেবল শাহানুর আলম, মোস্তাফিজার রহমান, নার্গিস বেগমকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। এছাড়া ঘটনাটি তদন্ত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যর একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/জামান