জামালপুরে ক্ষতিপূরণের আশায় নতুন স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:৪৩

জামালপুরের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের বিশ্বব্যাপী দ্রুত প্রসার ঘটানোর জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ‘জামালপুর শেখ হাসিনা নকশী পল্লী’ নামের একটি প্রকল্প অতিসম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় (একনেক) অনুমোদন দিয়েছেন। প্রকল্পটিতে ৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ঝিনাই রেল ব্রিজের দক্ষিণ পাশে তিনশ একর জমির উপর নির্মিত হতে যাচ্ছে নকশী পল্লী। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে মাটি ভরাট ও জমি অধিগ্রহণের জন্য মোট সাতশ ২২ কোটি টাকা কয়েক দিন আগে অনুমোদন দিয়েছে একনেক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশে এই প্রথম নকশী পল্লীতে থাকবে ফাইভ স্টার মানের একাধিক হোটেল, প্রশিক্ষণ সেন্টার, পার্ক। চারদিকে থাকবে লেক। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে শিল্পের সঙ্গে জড়িত বহু মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি জামালপুরসহ সারাদেশের নকশী শিল্পের দ্রুত প্রসার ঘটবে। আয় হবে বিদেশী মুদ্রা।

এই খবরে নকশী পল্লী গড়ে ওঠার আগে একশ্রেণির সুযোগ সন্ধানী চক্র নানা ফন্দি ফিকিরে তৎপর হয়ে উঠেছেন। তারা অধিক লাভের আশায় স্বল্প মূল্যে জমি কিনে অথবা ভাড়া নিয়ে জমির কাগজ হাত বদল করে সেখানে রাতারাতি গড়ে তুলছেন নতুন অবৈধ স্থাপনা। অপরদিকে প্রকৃত হস্তশিল্প ব্যবসায়ী কিংবা হস্তশিল্প না হয়েও ভবিষ্যতে সুযোগ-সুবিধা নিতে একশ্রেণির লোক জামালপুর পৌরসভায় এসে হস্তশিল্প ব্যবসার নামে ট্রেড লাইসেন্স করার হিড়িক ফেলেছেন। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক দিনের মধ্যে গড়ে উঠেছে সারি সারি পাকা ইমরত। এসব স্থাপনা তদারকি করা কম্পপুর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছে ঘর তোলার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, খাস জমির দখল সূত্রে মালিক যারা তারাতো অধিগ্রহণের টাকা পাবে না। তাই এখানে স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায়। তিনি আরও জানান, পাশের জায়গাটি ভাবকীর নুরুল সরকারের দখলে ছিল তাই তার কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে এখানে টার্কি মুরগীর ৩টি সেড গড়ে তোলা হচ্ছে। যাতে স্থাপনার টাকা পাওয়া যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই নুরুল ইসলাম শুধু নকশী পল্লীতেই নয়, তিনি ভাবকী এলাকায় নির্মাণাধীন শেখ হাসিনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে জমি অধিগ্রহণের পূর্বে পাকা ইমারত গড়ে তুলে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করেছিলেন। এছাড়াও জামালপুর-শেরপুরের চরাঞ্চলে অর্থনৈতিক জোনের নির্ধারিত স্থানেও ক্ষতিপূরণ আদায়ে স্থাপনা গড়ে তুলেছেন বলে একাধিক সূত্রে জানিয়েছে। জাহাঙ্গীর ও নুরুল ইসলাম ছাড়াও নকশী পল্লীর নির্ধারিত স্থানে প্রভাবশালীরা সরকারী অর্থ ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় রাতারাতি নতুন স্থাপনা গড়ে তুলছেন।

এ বিষয়ে জামালপুর হস্তশিল্প ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর সেলিম, হস্তশিল্প ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শাহিনুর আলম বলেন, নকশী পল্লীর খবরে এক শ্রেণির সুযোগ সন্ধানীরা অবৈধ পন্থায় অপ তৎপরতা শুরু করেছে। এছাড়া প্রকৃত হস্তশিল্প ব্যবসায়ী যাচাই বাছাই না করে করে ট্রেড লাইসেন্স না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, প্রকৃত হস্তশিল্প উদ্যোক্তারা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো উচিত।
 
এ ব্যাপারে জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর বলেন, প্রকল্প এলাকায় ক্ষতিপূরণ আদায়ে কিছু লোক নতুন করে স্থাপনা গড়ে তোলার খবর পেয়েছি। এসব করে কোনো লাভ হবেনা। প্রকৃত ভূমি মালিক ও ক্ষতিগ্রস্তদেরকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। নকশী-পল্লী নিয়ে কোনো অনিয়ম ছাড় দেওয়া হবে না।
 
ঐতিহ্যবাহী নকশী শিল্পটি দীর্ঘ দিন যাবত নানা প্রতিকূলতায় হারিয়ে যেতে বসেছিল। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বদলে যাবে জামালপুরের নকশী শিল্প ও শিল্পীদের ভাগ্য। তাই সরকারী অর্থ সঠিক কাজে ব্যবহার করে প্রকৃত হস্তশিল্পীরা যেন সুবিধাভোগ করতে পারে এ দাবী জেলাবাসীর।

ইত্তেফাক/অনি