সমগ্র ভারতে সরকারি নিষেধাজ্ঞার পরও দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটে অবাধে চলছে বাল্য বিবাহ। জানা গেছে, গুজরাট রাজ্যের কাছ এলাকায় যে ‘রাবারি’ উপজাতির বসবাস, তাদের মধ্যে এখনও বাল্যবিবাহের প্রচলন রয়েছে।
IMG0
দেশটিতে বিয়ের আইনগত বয়স নারীদের ক্ষেত্রে নূন্যতম ১৮ বছর এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ২০ বছর। যদিও বাল্যবিবাহের ঘটনা এখন কমছে, কিন্তু আদম শুমারি অনুযায়ী সেখানে এখনও বিবাহিত নারীদের এক তৃতীয়াংশের বিয়ে ১৮ বছরের আগেই হয়ে যায়। যদিও ভারত সরকার বলছে, বাল্যবিবাহের ফলে দারিদ্র্য দূরীকরণ, সার্বজনীন শিক্ষা, লিঙ্গ সমতা, শিশুর সুরক্ষা এবং নারী স্বাস্থ্যের মতো কর্মসূচিগুলো ব্যহত হচ্ছে।
IMG1
স্থানীয় এক ফটোগ্রাফার ফওজান হোসেন কাছ এলাকায় এমন কিছু বাল্যবিয়ের ছবি তুলেছেন। আর তাতেই ধরা পড়েছে গুজরাটের এই ভয়াবহ অবস্থার দৃশ্য। ফাওজানের তোলা কোনো কোনো ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ভোরবেলায় বালক বর একটি গাড়িতে চড়ে কনের গ্রামে গিয়ে হাজির হয়। বর পক্ষের মহিলারা আলাদা একটি ভ্যানে চড়ে আসেন।
IMG2
অপর এক ছবিতে ফুটে ওঠেছে, দীর্ঘ পথের ক্লান্তিতে বর এক সময় ঘুমিয়ে পড়ে। তারা বাবা তখন পাখা দিয়ে তাকে বাতাস করতে থকে। ঘুম থেকে ওঠার পর মাথায় পাগড়ি পরার পালা।
IMG3
রাজস্থান এবং গুজরাটের মত রাজ্যে বাল্য বিবাহের সাথে বর্ণ ও উপজাতি সম্পর্কের একটা যোগসূত্র রয়েছে। ভারতের প্রশাসন বলছে, বাল্যবিবাহের ফলে মেয়েরা যে নির্যাতন, শোষণ ও সহিংসতার শিকার হয় এমন প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে।
IMG4
এছাড়াও দেখা যাচ্ছে, কনেকে তার বাবা নিজেই শূন্যে তুলে বিয়ের আসরে নিয়ে আসে। বিয়ের আসরে প্রথমবারের মতো বর আর কনের শুভদৃষ্টি বিনিময়। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর চলে ভোজন পর্ব।। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যগুলোর একটি হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে বাল্যবিবাহ সম্পূর্ণভাবে বিলোপ করা। বিবিসি।
ইত্তেফাক/সেতু
