ওয়ার্নারের প্রতীজ্ঞায় মুগ্ধ টম মুুডি

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৯, ২১:২৭

মনে হচ্ছে, ডেভিড ওয়ার্নার কখনোই ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন না। এবার আইপিএলে ফিরেছেন এক বছর বিরতি দিয়ে। এক বছর নিষিদ্ধ ছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে। অথচ ব্যাটে তার এক বিন্দু মরিচার চিহ্ন নেই। আইপিএলে ফিরেই হয়ে উঠেছেন টুর্নামেন্টের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান।

আইপিএলে এবার তার প্রথম তিনটি ইনিংস হলো—৮৫, ৬৯ ও ১০০। রান করেছেন ১৭৬.২২ স্ট্রাইক রেটে। এই সাথে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের জনি বেয়ারস্টোর সাথে টানা তিন ইনিংসে শত রানের উদ্বোধনী জুটি করেছেন। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর বিপক্ষে হায়দারাবাদেই সেঞ্চুরি করার পর বুনো উল্লাস বলে দিয়েছে, এই রানগুলোর জন্য কতো ক্ষুধার্ত ছিলেন ওয়ার্নার।

সানরাইজার্স হায়দারাবাদের কোচ, অস্ট্রেলিয়ায় ওয়ার্নারের পূর্বসূরী টম মুডি বলছিলেন, এই ফিরে আসা ওয়ার্নারের দৃঢ়প্রতীজ্ঞা তাকে মুগ্ধ করেছে। ওয়ার্নারের নিজেকে প্রমাণের জন্য এটা করার দরকার ছিল বলে এই কোচ মনে করেন, ‘সে (ওয়ার্নার) মানসিকভাবে অসাধারণ একটা অবস্থায় আছে। সে পূর্ণ উত্সাহের সঙ্গে, পূর্ণ প্রতীজ্ঞার সঙ্গে ফিরে এসেছে। তার অনেক কিছু প্রমাণ করার ছিল। বিশ্বের সব সেরা খেলোয়াড়ের মতো ডেভিড ওয়ার্নারেরও একটা ব্যাপার আছে, তার এই খেলাটার জন্য, সাফল্যের জন্য অসীম একটা ক্ষুধা আছে। আর ওর সেই ক্ষুধাটা কোনোভাবেই এই সময়ে কমে যায়নি।’

ওয়ার্নার এই বিরতির সময়ে সেরা মানের ক্রিকেট খেলেননি। কিন্তু শেষ দিকে এসে কিছু ফ্রাঞ্চাইজি লিগ ও সিডনির ক্লাব ক্রিকেট খেলেছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে সিলেট সিক্সার্সের হয়ে ওয়ার্নারের পারফরম্যান্স মুডি প্রতিপক্ষ কোচ হিসেবেই দেখেছেন। বলছেন, এগুলো ওয়ার্নারকে তৈরি রেখেছে এই সময়টার জন্য, ‘হ্যাঁ, ও সর্বোচ্চ মানের ক্রিকেট থেকে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে ১২ মাস বাইরে ছিল। কিন্তু শেষ ছয় মাস ডেভিড ওয়ার্নার নিজেকে তৈরি করেছে। সে বেশ কয়েকটা ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলেছে গত ১২ মাসে। সে একই সঙ্গে সিডনিতে ক্লাব ক্রিকেটও খেলেছে। এটা ঠিক যে, এগুলোর মান একইরকম নয়। কিন্তু ও টেকনিক্যাল দিকের চেয়েও মানসিক দিক থেকে এই সময়ে নিজেকে বেশি প্রস্তুত রেখেছে। ওর খেলা সবসময়ই টেকনিক্যালি অসাধারণ। ফলে ওর দরকার ছিল মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা। সে এই টুর্নামেন্টে সুযোগ পেয়েই দারুণ একটা শুরু করেছে।’

মুডি বলছিলেন, ওয়ার্নার ব্যক্তি হিসেবেই খুব শক্ত ধাঁচের একজন মানুষ। আর এটাই তাকে এই নিষেধাজ্ঞার সময়টাতেও ইতিবাচক রেখেছে। যার ফল এখন তিনি পাচ্ছেন, ‘সে সবসময় খুব ইতিবাচক মানসিকতার একটা মানুষ। সে খুব প্রতীজ্ঞাবদ্ধ এবং ব্যক্তি হিসেবে খুব দৃঢ়প্রতীজ্ঞ। ও, স্টিভেন স্মিথ ও ক্যামেরন ব্যানক্রফট গত ১২ মাসে যা সহ্য করেছে, তাতে ওদেরকে মানসিকভাবে খুব শক্ত হতেই হয়েছে। ওদের দৃঢ়তা দেখাতে হয়েছে এবং অনেক ইতিবাচক থাকতে হয়েছে। ওদের মানসিকভাবে ইতিবাচক থাকার কোনো বিকল্প ছিল না। কারণ, এরকম লম্বা বিরতিতে অনেকেই মানসিকভাবে ধসে পড়ে।’

মুুডি বলছিলেন, যদিও ওয়ার্নার হায়দারাবাদের অধিনায়ক নন; কিন্তু কেন উইলিয়ামসনের অনুপস্থিতিতে তার নেতৃত্বগুণও দলের খুব কাজে লাগছে।