কিছুদিনের জন্য নাড়ীর টানে বেরোবি শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ২২ জুন ২০১৭, ২১:৪৪
 
রমযান মাস প্রায় শেষের দিকে। আসছে ঈদুল ফিতরের দিন এই দিন যতই নিকটে আসছে আনন্দটা ততই বেড়ে চলছে। ভাবতে খুব ভালো লাগছে যে আর কিছুদিন পরেই ঈদ। বাড়ি থেকে প্রতিনিয়তই আসছে বাবা, মা, ভাই বোনের ফোন। মা বলছে তুই কবে আসবি বাবা কতদিন দেখিনা তোকে। না জানি কত কষ্টে আছিস তুই!
 
এই ফোন পেয়ে কি আর মনকে মানানো যায়, মনতো ছুটে চলছে বাড়ির দিকে। তাই খুব দ্রুত প্রস্তুতি চলছে বাড়ির পথে রওনা হওয়ার জন্য।ক্যাম্পাসে বন্ধুদের ছেড়ে কিছুদিন দূরে থাকতে হবে এটা যতটুকু খারাপ লাগছে তার চেয়ে অধিক আনন্দ লাগছে বাড়িতে প্রিয়জনদের সাথে দেখা হবে। বাড়িতে প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার আনন্দটাই অন্যরকম। কতদিন হতে দেখিনা বাবা,মা ,ভাই বোন কে। কতদিন হতে খাইনা মায়ের হাতের প্রিয় রান্না। এসব কথাগুলো মনে পড়লে ভিতর থেকে অনেক আবেগ কাজ করতে থাকে। ঈদের ছুটিতে ক্যাম্পাস ছেড়ে বাড়িতে যেতে যতটা আনন্দ পাই তার চেয়ে বেশি কষ্ট লাগে ছুটি শেষে প্রিয়জনদের কে ছেড়ে ক্যাম্পাসে (বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়-বেরোবি) ফিরে আসতে। কারণ নাড়ীর টান সব সময় ভিতরে কাজ করে। কথাগুলো বলছিলেন- বেরোবি শিক্ষার্থী তৌহিদুর রহমান।
 
লোকপ্রশাসন বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নিয়াজ আহমাদ জীম বলেন, 'ক্যাম্পাস আমার কাছে ২য় পরিবারের মতো লাগে,আর দ্বিতীয় পরিবারের চেয়ে  আমার প্রথম পরিবারের কাছে যাওয়ার আনন্দটা খুব বেশি কাজ করে। কারণ, পরিবারের সাথে ঈদ করাটা অনেক বেশি আনন্দের কেননা একমাত্র ঈদের ছুটিতে বাড়ীতে সকলের সাথে দেখা করার সুযোগ হয়।' আবাসিক শিক্ষার্থী রিপু বলেন, 'ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় হল রুমে এবং ক্যাম্পাসে আড্ডার চিরচেনা জায়গা গুলো আমি খুব মিস  করব। তবে মায়ের হাতের রান্নাতো আর মিস করা যায় না তাই ছুটি হলেই চলে যাই প্রিয়জনদের ভালোবাসার টানে।'
 
ছুটি হওয়ার আগে থেকে যে সকল বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাস পরীক্ষা নেই তারা অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো ছাড়তে শুরু করেছে। আর যে সকল বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাস পরীক্ষা ছিল তাদের তো ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে। কিন্তু যখন ক্যাম্পাস ছুটি হয়ে যায় তখন আর মনকে কে যেন বেধে রাখা যায় না মন ছুটে যেতে চায় তার নিজের নীড়ে। ২০ জুন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় সকল শিক্ষার্থী ছুটে চলছে নিজ নিজ নীড়ে আপন জনের কাছে। আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থী শূন্য হতে শুরু করেছে এমনকি যে সকল শিক্ষার্থী বিভিন্ন মেসে থাকে তারাও ছুটতে শুরু করছে বাড়ির দিকে।
 
আর এভাবে যখন প্রায় সকল শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস ছাড়তে শুরু করে তখন আস্তে আস্তে শূন্য হতে থাকে উত্তরের আলোকবর্তিকা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। রমযান মাস  জুড়ে ক্যাম্পাস থাকে যেমন জাঁকজমক  পূর্ণ ঠিক তার বিপরীতে যখন ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু হয় ক্যাম্পাসে চেহারা যেন সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়ে যায়। কেননা ক্যাম্পাসের সেই চিরচেনা আড্ডার জায়গাগুলো ফাকা হয়ে যায় , চোখে পড়ে না আর বন্ধুদের সেই ইফতার আনন্দের আমেজ। সন্ধ্যার পর আর আগের মতো শিক্ষার্থীদের আড্ডায় মেতে উঠার দৃশ্য চোখে পড়ে না। কেননা শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের আনন্দ ঘন পরিবেশের ভিড় ছেড়ে ছুটে চলছে সকলেই  নাড়ীর টানে আপন নীড়ে।
 
ইত্তেফাক/জামান