ঢাকা-বরিশাল নৌরুটের যাত্রীবাহী লঞ্চ কীর্তনখোলা-১ এর যাত্রীরা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে। ঈদ স্পেশাল সার্ভিসের যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে বরিশাল আসার পথে চরে আটকা পড়লে বিক্ষুদ্ধ যাত্রীরা এ হামলা চালায়।
এদিকে বরিশাল নৌবন্দরে পৌঁছার পর লঞ্চ কর্তৃপক্ষের লোকজন যাত্রীদের ওপর হামলা করে। লঞ্চটি পন্টুনে ভেরার সময় ধাক্কা লেগে ৫ যাত্রী নদীতে পড়ে যান। আরো বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন। লঞ্চের মাস্টার আব্দুস সালামকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে লঞ্চটির যাত্রা বাতিল করেছে বিআইডব্লিউটিএ।
লঞ্চের যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান ঢাকা থেকে ঈদ স্পেশাল সার্ভিসের যাত্রী নিয়ে লঞ্চটি শনিবার দুপুরে রাজধানীর সদরঘাট থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে কীর্তনখোলা নদীর চরবাড়িয়া পয়েন্টে ডুবো চরে লঞ্চটি প্রথমে আটকা পরে। এ সময় বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা লঞ্চে ভাঙচুর চালায়। আটকা পরার প্রায় আধাঘণ্টা পর লঞ্চটি ডুবো চর থেকে মুক্ত হয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে লঞ্চটি বরিশাল নৌ বন্দরে পৌছায়। তবে বেপরোয়া গতির কারণে লঞ্চের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেনি মাস্টার। এতে করে প্রচণ্ড গতিতে পল্টুনের সঙ্গে ধাক্কা লাগে । পন্টুন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখনই লঞ্চ কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের ওপর শোধ নিতে ন্যাক্কারজনক হামলা চালায়।
চরমোনাইর বাসিন্দা ইউসুফ মোল্লা জানান, ঢাকার ঘাট থেকেই লঞ্চটির স্টাফরা যাত্রীদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার শুরু করছিল। নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে লঞ্চটি যাত্রা শুরু করে। পথিমধ্যে বরিশালের চরবাড়িয়া পয়েন্টে যখন লঞ্চটি ডুবোচরে আটকা পড়লে যাত্রীদের সান্ত্বনা না দিয়ে উল্টো দুর্ব্যবহার শুরু করে কর্তৃপক্ষ।
বরিশাল নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, লঞ্চ কর্তৃপক্ষ দায়িত্বহীন মনোভাব প্রকাশ করে বেপরোয়াভাবে লঞ্চ পরিচালনা করায় এ ধরনের দুর্ঘটনার ঘটেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া চলছে।
বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপপরিচালক আজমল হুদা সরকার মিঠু সরকার জানান, লঞ্চটির ধাক্কায় পল্টুন ভেঙে গেছে এবং অপরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া পল্টুনের সামনের অংশসহ বেশ কয়েকটি স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইত্তেফাক/ইউবি
