নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেঘনায় চলছে জাটকা শিকার!

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৪৫

মাছের উত্পাদন বৃদ্ধি ও জাটকা রক্ষায় সরকারের দেওয়া দুই মাস সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দিনে ও রাতের আঁধারে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মেঘনা নদীতে জাটকা ইলিশ ধরছে জেলেরা। এসব জাটকা দেদারসে বিক্রি হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে। অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক মণ জাটকা জব্দ ও একই সঙ্গে জড়িতদের আটকের পর জেল-জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। কিন্তু  কে শোনে কার কথা! অবাধে জাটকা নিধন চলছেই রায়পুরের মেঘনায়।

গত দু’দিন রায়পুর উপজেলার মেঘনা নদীর বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলেরা নির্বিঘ্নে মাছ শিকার করছেন। এসব মাছ প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে হাট-বাজার ও আড়তে। সংরক্ষণ করে পাঠানো হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। গত সোম ও মঙ্গলবার পৃথক দু’টি পিকআপ ভ্যানে করে প্রায় ৫০ মণ জাটকা নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হন চার ব্যবসায়ী। পুলিশ পৃথক স্থান থেকে জাটকাসহ ওই চার ব্যবসায়ীকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করে এবং জব্দ করা জাটকাগুলো স্থানীয় এতিমখানায় দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও গত মাসে মত্স্য বিভাগ ও কোস্টগার্ড নদীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে আরো প্রায় ৫০ মণ জাটকা জব্দ ও কয়েক জেলেকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়।

চরবংশী এলাকার জেলে আনোয়ার গাজী বলেন, আড়ত থেকে দাদনে নেওয়া টাকা পরিশোধ করতে হবে। তাই বাধ্য হয়ে বেশি মাছ ধরতে নামি।

দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু ছালে মিন্টু ফরাজী বলেন, নিষেধাজ্ঞা মেনে আমাদের জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রেখেছে। কিন্তু তারপরও কিছু অসাধু জেলে রাতের আঁধারে জাটকা ইলিশ ধরছে। তবে এসব জেলেরা বেশি অন্য জেলার।

উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, বর্তমানে মেঘনা নদীতে যাঁরা জাটকা ধরছেন, তারা অন্য এলাকার জেলে। এই এলাকার জেলেরা সরকারি বিধি মেনে জাটকাসহ সব ধরনের মাছ ধরা ও বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। এরপরও বাজারে কিছু কিছু জাটকা বেচাকেনা করতে দেখা যাচ্ছে। তাই ওই সব জেলেদের আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল ও জরিমানা করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রানী রায় বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমকে নিরাপদ করতে উপজেলা প্রশাসন, মত্স্য বিভাগ, রায়পুর থানা পুলিশ ও কোস্টগার্ড নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে। কিন্তু তারপরও কিছু অসাধু জেলে জাটকা শিকারের চেষ্টা করছেন। তা বন্ধ করার জন্য নদীতে বেশ কয়েকটি অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জাল ও জাটকা জব্দসহ কয়েক জেলেকে আটক করে জেল-জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এরপরও কেউ জাটকা ধরে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।