মুক্তাগাছায় ভিড় বাড়ছে পর্যটন কেন্দ্রে

আপডেট : ২৭ জুন ২০১৭, ১৫:২৬
ঈদ উপলক্ষে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। মুক্তাগাছা জমিদারবাড়ি সংস্কার হওয়ায় সেখানে পর্যটকদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বিষ্ণু সাগর দীঘি, প্রাচীন স্থাপনা যুগল মন্দির, চান খাঁর মসজিদ, বিবির ঘর, ঘূর্ণায়মান নাট্য মঞ্চ, সাত ঘাটের পুকুর, জলটং, শিশুপার্ক, রসুলপুর বন ঘুরে দেখে মুক্তাগাছার ঐতিহ্যবাহী খাবার মন্ডার স্বাদ নিয়ে ফিরে যান আগত পর্যটকরা।
 
জানা যায়, সতেরশ’শতকের মাঝামাঝি নির্মাণ করা হয় মুক্তাগাছার জমিদার বাড়িটি। ১৮শ’ শতকের ভূমিকম্পে বাড়িটি ভেঙ্গে পড়লে লন্ডন আর ভারত থেকে সুদক্ষ কারিগর এনে ভূমিকম্প সহিষ্ণু করে পুনঃনির্মাণ করা হয়। ১৯৪৭ সালের পর মুক্তাগাছায় জমিদারি প্রতিষ্ঠাতা শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরীর ১৬ জন বংশধরের প্রায় সবাই চলে যান ভারতে। পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে তাদের নির্মিত ১৬টি বাড়ি। ক্রমান্বয়ে বাড়িগুলোতে (রাজবাড়ি ব্যতীত) গড়ে তোলা হয় শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ক্যাম্প, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, নবারুণ বিদ্যানিকেতনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। জমিদারদের কয়েকটি বাড়ি এখনও দখল করে অবৈধভাবে বসবাস করে আসছেন স্থানীয় কিছু লোকজন। বর্তমান সরকার পর্যটনের অপার সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে জমিদারবাড়ি সংস্কারের কার্যক্রম হাতে নেয়। সংস্কারের ফলে ফিরে আসতে থাকে বাড়িটির আগের চেহারা। গত জুনে সংস্কার কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও আরও সময় প্রয়োজন বলে জানান সংশ্লিষ্ট  শ্রমিকরা। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সংস্কার কাজের সময় বৃদ্ধি করে চালিয়ে যাচ্ছেন কাজ। IMG0
 
কথিত আছে, একসময় নিম্নাঞ্চল ছিল মুক্তাগাছা শহর। বিশাল দীঘি খনন করে শহর উঁচু করে জমিদারির গোড়াপত্তন করা হয়। এরপর দীর্ঘ আড়াইশ’ বছর ধরে বন্যামুক্ত মুক্তাগাছা। মুক্তাগাছায় জমিদারগণ এখানে অবস্থানকালে বহু স্থাপনা নির্মাণ করেন। রোপণ করেন দুর্লভ প্রজাতির গাছপালা। এখন জমিদার না থাকলেও রয়ে গেছে তাদের নির্মিত বহু মূল্যবান স্থাপনা।সম্প্রতি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ক্যাম্প অভ্যন্তরে স্থাপন করা হয়েছে শিশু পার্ক।
 
ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল সড়কের মুক্তাগাছার রসুলপুর বনে শাল-গজারি গাছ আর লাল মাটিতে আনারস বাগান দেখলে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। শোনা যায়, জমিদারদের অত্যাচার থেকে পরিত্রাণ পেতে এই বনে একসময় গড়ে ওঠে বিদ্রোহী ফকির সন্ন্যাসী বাহিনী। সুরম্য স্থাপনা পরিদর্শন শেষে দেশখ্যাত মন্ডার স্বাদ পর্যটকদের ক্লান্তিদূর করে। আজ থেকে ২শ’বছর আগে স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে গোপাল পাল এই মন্ডা তৈরি করেন। মন্ডা বিক্রেতা গোপাল পালের বংশধররা জানান, এবছর পর্যটকের সংখ্যা বেশি তাই মন্ডা বিক্রি বেড়েছে। জমিদার বাড়ি সংস্কারের ফলে পর্যটকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
 
স্থানীয়রা বললেন, ঈদের পর থেকেই পর্যটকরা আসছেন। তবে ঈদের দিন সব রেকর্ড ভেঙে প্রচুর পর্যটক এসেছেন। পর্যটকরা বললেন, সবই দুর্দান্ত জায়গা। দেখে মন ভরে গেল। এখানকার প্রকৃতিক সৌন্দর্য অতুলনীয়।
 
ইত্তেফাক/এমআই