হালদায় ডিম সংগ্রহের অপেক্ষায় জেলেরা

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৫২

প্রাকৃতিক মত্স্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মা মাছ যে কোনো সময় ডিম ছাড়তে পারে। ডিম সংগ্রহকারীরা নৌকা ও জাল নিয়ে ডিম সংগ্রহের জন্য প্রতিক্ষার প্রহর গুণছে। গত রবিবার রাত ৯টার দিকে এবং মঙ্গলবার রাত আটটা থেকে রাত এগারটা পর্যন্ত দমকা হাওয়া ও হালকা বৃষ্টি ও বজ্রপাত হলে ডিম সংগ্রহকারীরা নৌকা ও জাল নিয়ে হালদা নদীতে কখন মা মাছ ডিম ছাড়বে তার প্রতিক্ষায় প্রহর গুণতে থাকে।

বর্তমানে শত শত ডিম সংগ্রহকারী নৌকা জাল নিয়ে হালদা নদীর গড়দুয়ারা, মার্দ্রাসা, দক্ষিণ মার্দ্রাসা, আমতুয়া, রামদাশ হাট, মাছুয়া ঘোনা, মেখল, মার্দ্রাসা, দক্ষিণ মার্দ্রাসা এবং রাউজানের অংকুরি ঘোনা, পশ্চিম বিনাজুরী, কাগতিয়া, গোলজার পাড়া, কাশেম নগর, আজিমের ঘাট, মগদাই, খলিফার ঘোনা, পশ্চিম আবুরখীল, মইশকরম, সার্কদা, মোকামী পাড়া, কচুখাইন, এলাকায় ডিম সংগ্রহের জন্য প্রতিক্ষার প্রহর গুনছে। হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ার মৌসুমে ডিম সংগ্রহকারীরা নদীর তীরে পূর্ব থেকে মাটির কুয়া খনন করে রেখেছেন। ডিম সংগ্রহ করার পর মাটির কুয়ায় ডিম থেকে রেণু ফোটানোর জন্য সব রকম প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মো. আজহারুল আলম জানান, এখন যে কোনো সময় হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়তে পারে। প্রাকৃতিক মত্স্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে প্রতি বছরের চৈত্র মাস থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত সময়ে মা মাছ ডিম ছাড়ে। হালদা নদীর তীরবর্তী হাটহাজারী, রাউজান এলাকার মত্স্যজীবী, জেলে, ডিম সংগ্রহকারীরা হালদা নদী থেকে মা মাছের ডিম সংগ্রহ করে। নদী থেকে সংগ্রহ করা ডিম নদীর তীরে মাটির কুয়ায় রেখে ও সরকার কর্তৃক নির্মিত হ্যাচারিতে ডিম থেকে রেণু উত্পাদন করা হয়। হালদা নদীর মা মাছের ডিম থেকে উত্পাদিত রেণু দেশের বিভিন্ন এলাকায় মত্স্যজীবী, মত্স্য খামারিরা ক্রয় করে নিয়ে যায়। তিনি জানান, হালদা নদীতে সবচেয়ে রুই, মৃগেল, কালিবাউশ মাছ ডিম ছাড়ে বেশি।

এদিকে, হালদা নদীর নাজির হাট থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার পর্যন্ত নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়ার মৌসুমে যান্ত্রিক নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হালদায় বহুসংখ্যক ড্রেজার ও যান্ত্রিক নৌকায় করে বালু উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।