যে বাড়িতে বসে হামলার পরিকল্পনা

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৭, ১০:৩৪
 
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ৬ নম্বর সড়কের ই-ব্লকের টেনামেন্ট-৩-এর এ/৬ নম্বর ফ্ল্যাটটি মাসিক ২০ হাজার টাকায় ভাড়া নেয় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট তানভীর কাদরী। এই ফ্ল্যাটটির মালিক নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রোভিসি অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহসান। ঐ ফ্ল্যাটে তানভীর কাদরীর সঙ্গে বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেটের পরিবার উঠেছিল। রমজানের ৮/১০ দিনের মাথায় চকলেট প্রথম দফায় দুইজন ও পরবর্তীতে তিনজনকে বাসায় নিয়ে আসে।
 
এরা হলো হলি আর্টিজানে হামলাকারী নিবরাস ইসলাম সাংগঠনিক নাম সাদ, মীর সামীহ মুবাশ্বীর সাংগঠনিক নাম শুভ, রোহান ইমতিয়াজ সাংগঠনিক নাম মামুন, শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল সাংগঠনিক নাম আলিফ ও খায়রুল ইসলাম পায়েল সাংগঠনিক নাম উমর। সাংগঠনিক নাম অনুযায়ী আলিফ ও উমর কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহে এর আগে অপারেশন পরিচালনা করে। এর কয়েকদিন পর ঐ বাসায় ওঠে তামিম আহমেদ চৌধুরী ও মারজান। একই দিন সেখানে আসে হূদয় ও জাহাঙ্গীর। জাহাঙ্গীরের সঙ্গে ছিল তার স্ত্রী ও ছেলে শুভ।
 
ওই বাসাতেই গাজাওয়াত-১৬ নামের একটি অপারেশনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়। কানাডা প্রবাসী তামিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নূরুল ইসলাম মারজান ও চকলেট সেখানে অস্ত্র-গ্রেনেড নিয়ে আসে। তামিম, সাদ, মামুন, ওমর, আলিফ ও শুভ দিনের বেশিরভাগ সময়ই ঐ ফ্ল্যাটে থাকত। ফ্ল্যাটে ৪টি বেডরুমসহ ৭টি রুম ছিল। তামিমসহ ৫ জন এক রুমে থাকত। তানভীর কাদরী, তার দুই ছেলে বাসার ড্রইং রুমে থাকত। তানভীর কাদরীর স্ত্রী আবেদাতুন খাদিজা ও শুভ’র মা এক রুমে থাকত।
 
১ জুলাই হলি আর্টিজানে হামলার দিন বিকাল ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে হামলাকারী ৫ যুবক ফ্ল্যাট থেকে বের হয়ে যায়। তাদের কাঁধে একটি করে ব্যাগ ছিল। ঐ ব্যাগে অস্ত্র ও গ্রেনেড ছিল। বাসা থেকে বের হওয়ার আগে তারা কোলাকুলি করে বলে, ‘জান্নাতে গিয়ে দেখা হবে, ইনশাল্লাহ’। এই অভিযানের দুই দিন আগে ঐ বাসা থেকে জাহাঙ্গীর ও তার পরিবার বের হয়ে যায়। হূদয়ও সেখান থেকে চলে যায়। ১ জুলাই বিকালে ঐ বাসা থেকে তামিম ও চকলেট বের হয়ে যায়। সর্বশেষ ইফতারের পর তানভীর কাদরী তার পরিবার নিয়ে ট্যাক্সিক্যাবে করে পশ্চিম শেওড়াপাড়া ৪৪১/৮ নম্বর বাড়ির নিচ তলার একটি ফ্ল্যাটে চলে যান।
 
হামলার বিষয়টি তানভীর কাদরীসহ শীর্ষ জঙ্গিদের অনেকেই জানত। তবে তারা এই ভেবে কিছুটা আশঙ্কায় ছিলেন যে হলি আর্টিজানে পৌঁছানোর আগে ‘ইংগিমাসি’ দলটি পুলিশ চেকপোস্টে ধরা পড়ে যায় কী না। হামলাকারীরা যে আত্মঘাতী হবে সে বিষয়টি অবশ্য তাদের জানা ছিল। তবে পরিকল্পনা ছিল চেকপোস্টে ধরা পড়ে গেলে সেখানেই হামলা শুরু করবে তারা। গ্রুপের কয়েকজন পুলিশকে ব্যস্ত রাখবে। বাকিরা চলে যাবে হলি আর্টিজানে।
 
১ জুলাই সন্ধ্যার পর থেকে শেওড়াপাড়া বাসায় তানভীর কাদরী অস্থির অবস্থা পার করছিলেন। অপারেশন আদৌ হলো কিনা তা নিয়ে বড় ছেলের সঙ্গে বার বার কথা বলছিলেন। টেলিভিশনে ব্রেকিং নিউজ দেখতে পেয়ে অনেকটা ঠান্ডা হন। পরদিন সকালে তানভীর কাদরী তার ছেলেকে ডেকে বলে, তোমার ভাইরা শহীদ হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ।