হলি আর্টিজানে জীবনের কোলাহল

আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৭, ১১:৫৯
 
কোনো কিছুর জন্যই জীবন থেমে থাকে না। থেমে থাকেনি হলি আর্টিজানও। নতুন জায়গায় নতুন করে যাত্রা শুরু করেছে। পরিসর ছোট। পুরোনো লোকজনরাই কাজ করছেন। আসছেন পুরোনো ক্রেতারাও। ক্রেতা-বিক্রেতারা সবার মাঝেই শোক কাটিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়।
 
গতবছর ঈদের ছুটি শুরুর সময় হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা বাংলাদেশের মানুষের মনে যে আতঙ্কের জন্ম দিয়েছিল তা কাটিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। দেশের মানুষ যেন সেই শোককে শক্তিতে বদলে নিয়েছে। শোককে শক্তিতে পরিণত করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে হলি আর্টিজানও।
 
এমন দুর্বিষহ কষ্ট বাংলাদেশের মানুষের বুকে চিরকালের দাগ রেখে গেছে। একবছর পেরিয়ে গেলেও রক্তাক্ত হূদয় নিয়ে ঈদের খুশি যেন মনে আসছিল না কারো। ঈদের ছুটিতে ইশরাত, ফারাজ ও অবন্তির স্বজনদের শোকে আকুল মুখ ভেসে উঠছিল বারবার মনের মধ্যে। যে বিদেশিরা বাংলাদেশে এসে লাশ হয়ে ফিরে গিয়েছেন, যাদের স্বজনরা প্রথমবারের মত বাংলাদেশে এসে এক রক্তস্নাত বাংলাদেশ দেখে গিয়েছিলেন, তাদের সন্তান হারানো শোক এবারো বুকে বেজেছে। এই পাহাড় সমান শোক বুকে নিয়েই সবাই শোক জানাবেন হলি আর্টিজান বেকারিতে নিহতদের। সবাই এই প্রতিজ্ঞাও নেবেন— মানুষের মৃত্যুর বিনিময়ে তথাকথিত কোনো আদর্শ প্রতিষ্ঠা নয়।
 
গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কের পুরোনো হলি আর্টিজানে এখনো তালা ঝুলছে। উত্সুক মানুষের আনাগোনা লেগে রয়েছে। রয়েছে মিডিয়াকর্মীদের ভিড়। কিন্তু কারোরই ভেতরে প্রবেশের অনুমতি নেই। গুলশান দুই গোলচক্কর পেরিয়ে থানার পাশেই নতুন করে যাত্রা শুরু করেছে হলি আর্টিজান বেকারি, ক্রেতারা আসছেন। তরুণদের আনাগোনায় বেশ মুখর পাঁচশ’ বর্গফুটের নতুন জায়গটি। ছোট ছোট টেবিল পাতা। সেখানে আড্ডা জমে উঠেছে। বিদেশি ক্রেতারা আসছেন। এখানকার ফ্লোর ইনচার্জ শাহরিয়ার বললেন— ওইসব ঘটনা মনে করতে চাই না। নতুন করে সবকিছু শুরু করতে চাই। তবে সেদিনের আতঙ্ক কাটতে চায় না। একলা হলেই সেই আতঙ্কময় রাত ফিরে আসে স্মৃতিতে।
 
বেকারির সহকারী কুক আকাশ খান বললেন— ওই ঘটনা তাড়িয়ে ফেরে। ঘুমের মধ্যেই দুঃস্বপ্ন দেখি। সেদিন আমরা অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়েছিলাম। বাথরুমে সারারাত আটকে ছিলাম। শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। বেঁচে ফিরবো সেই আশা ছিল না। আল্লাহর কাছে দোয়া করি, দেশে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে।