নির্বাচনব্যবস্থা কি দিন দিন উন্নত হচ্ছে?

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৯, ২২:১৭

জাতীয় নির্বাচনের পর কয়েক ধাপে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাড়ছে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের অভিজ্ঞতা। অভিজ্ঞতার আলোকে নির্বাচনব্যবস্থাও কি সেইভাবে দিনদিন উন্নত হচ্ছে? এ ব্যাপারে টেলিফোন ও ইমেইলে পাঠকের দেওয়া মতামত আজ প্রকাশিত হলো 

জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনগুলোর প্রতি সাধারণ জনগণের অনীহা পঁচাত্তরপরবর্তী সরকারগুলোর আমল থেকে শুরু হয়েছিল। সে সময়কার তথাকথিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, সংসদ নির্বাচন, গ্রাম সরকার নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচনসহ প্রত্যেকটি নির্বাচনে হুন্ডা, গুন্ডা, বোমাবাজি, ভোট বেচা-কেনা, কেন্দ্র-দখল, প্রতিপক্ষের প্রতি হুমকি-ধমকি নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা ছিল। তার জের টানতে টানতে এক পর্যায়ে শেখ হাসিনা সরকারের অভ্যুদয়। শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে প্রথম দিককার নির্বাচন দেখে জনগণ স্লোগান তুলেছিল, ‘ব্রিটিশের শাসন, মুজিবের ভাষণ এবং হাসিনার নির্বাচন’। বর্তমানে সেই সুতায় কেন টান পড়ল তা বোধগম্য নয়।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী

জাতীয় নির্বাচনের পর চতুর্থ ধাপে উপজেলা নির্বাচন গ্রহণ শেষ হয়েছে। এবারের উপজেলা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। সেটি অবশ্যই গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়। অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি লক্ষণীয়। তার মধ্যে ব্যালট ছিনতাই, সিলমারা ব্যালট দিয়ে বাক্স ভরে দেওয়া, ভোট বর্জন, কেন্দ্র দখলসহ বিভিন্ন রকম ঘটনা আমরা পত্রপত্রিকাসহ মিডিয়ার মধ্য দিয়ে জানতে পারি। তাই উক্ত বিষয়গুলো দূর করতে হলে প্রয়োজন নির্বাচন নীতিমালাকে কঠোর ভাবে প্রয়োগ করা।

মো. মাসুদুজ্জামান মাসুদ

নাজিমুদ্দিন রোড, ঢাকা

উপজেলা পরিষদের চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি অনেক কম দেখা গেছে। প্রশ্ন হলো, জনগণ কি ভোটের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে? আসল কথা হচ্ছে, সুষ্ঠু ভোটের বিকল্প নেই, নেই নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নতি করা। তাই নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, কর্মকর্তারা এ বিষয়ে আরো সজাগ ও উদ্যোগী হতে হবেন।

হোসনে আরা করিম নীলা

নারীর কথা, হাজারীবাগ ঢাকা

উপজেলা নির্বাচনের চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে ভোটারদের তেমন উত্সুক দেখা যায়নি। বেশিরভাগ কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা ছিল খুবই কম। স্থগিত হয়েছে অনেক উপজেলার নির্বাচন। তাহলে নির্বাচন ব্যবস্থা উন্নতি হলো কোথা থেকে?

অ্যাডভোকেট এস কে মো. রমিজউদ্দিন

কাজীপাড়া, মিরপুর, ঢাকা

নির্বাচন ব্যবস্থা উন্নত হচ্ছে বলেই দেশের মানুষ ইভিএমের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে। তবে নির্বাচন কমিশনকে আরো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হওয়া উচিত।

ফারুক আহমেদ

বাঘমারা, রাজশাহী

আগে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে জনগণকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবার ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ ভোটারই থাকে অনুুপস্থিত। যেহেতু সাধারণ জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে ভোট দিতে যায় না। সেহেতু নির্বাচন ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে আমি এ কথা বলতে পারি না।

মো. আবুল কালাম আজাদ

সর্দারপাড়া, মুন্সীগঞ্জ

নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্ব নিতে হবে। সর্বোপরি ইসিকে সম্পূর্ণভাবে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। ভোটের আগে ও পরে যেন সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে সেদিকে নজর দিতে হবে।

সুলতানা জামান

মানিকনগর, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা

জাতীয় নির্বাচনের পর কয়েক ধাপে উপজেলা নির্বাচন হয়ে বর্তমানে প্রায় শেষ প্রান্তে। এই নির্বাচনের বড় অংশ হলো নির্বাচন কমিশনসহ সকল ব্যক্তি ও বর্গের অভিজ্ঞতা। ভবিষ্যতে জাতীয় নির্বাচনও কয়েক ধাপে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

ডা. জামিল রহমান

গোপালপুর, টাঙ্গাইল

আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থা মোটেই এগোয়নি বরং পিছিয়েছে বলে আমি মনে করি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাখা না রাখা নিয়ে বিবেচনা-পুনর্বিবেচনার আগে এদেশে তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি আসার শানেনজুল আমাদের জানতে হবে। যে কারণে আন্দোলন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আনা হলে সেই অনাস্থা, অবিশ্বাস আমাদের মাঝ থেকে কি গেছে? আমরা বলি আমেরিকা, ব্রিটেনসহ অনেক বড় বড় দেশের ক্ষমতাসীন দলীয় সরকারের অধীনে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের কথা; কিন্তু সেসব দেশের সরকারি ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যকার সম্পর্ক আর আমাদের নেতাদের মধ্যকার সম্পর্ক রাত আর দিন পার্থক্য নয় কি?

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর

আমরা যে নির্বাচনী ব্যবস্থা চাই, বাস্তবতা তার থেকে অনেক দূরে থেকে যায়; কিন্তু যে জাতির একটা বিশাল গৌরবের ইতিহাস আছে, সে জাতি কেন একটা ভালো নির্বাচন পাবে না? আমি বিশ্বাস করি, সেই দিকে কিছুটা হলেও আমরা এগোচ্ছি। তরুণেরা কথা বলছে, তাদের কথা রাজনীতিবিদেরা শুনছেন না। আমি দেখেছি, তারা অনিয়মকে, অন্যায়কে ঘৃণা করে; তারা রাষ্ট্রের মেরামত চায়। আজ চাইছে, কালই হয়তো পারবে না; কিন্তু পরশু, না হয় পরের সপ্তাহে অবশ্যই পারবে। বাংলাদেশ তারুণ্যনির্ভর, অসম্ভব সম্ভবের একটি দেশ। তরুণেরা যদি দলে দলে ভোটকেন্দ্রে যায়, ভোট দেয়, নিজের এবং অন্যের ভোটের দাবি অর্জনে সফল হয়, তাহলে আগামী নির্বাচনে আমরা হয়তো বলতে পারব অতীতকে আমরা সত্যিই পেছনে ফেলে আসতে পেরেছি।

মোছাঃ বিলকিছ আক্তার

সরকারি ম্যাটস, টাঙ্গাইল

আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা এখনো উন্নত হয়েছে বলে আমি মনে করি না। যেভাবে হানাহানি ও ছিনতাই পরিহার করার জন্য অনলাইন টেন্ডার ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়েছে, সেভাবেই ব্যালট ছিনতাই, হানাহানি ও খুন-খারাপি পরিহার করার জন্য ভোট ব্যবস্থাকে অনলাইন করার ব্যবস্থা করতে হবে। এতে সময় ও অর্থের অপচয় রোধ হবে।

মোহাম্মদ শহীদউল্যা

হক ভিলা, মেরাদিয়া, ঢাকা

নির্বাচন কমিশনের অভিজ্ঞতা থাকা, না থাকা বিষয় নয়, অভিজ্ঞদের এখানে নিয়োগ দেওয়া হয়। রাজনীতিকদের প্রতি সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা নেতিবাচক। কেন ভোট দেবে, ভোটের গুরুত্ব কি? এটি মনে হয় রাজনীতিকরা সাধারণ ভোটারদের উপলব্ধি করাতে ব্যর্থ।

মো. ফিরোজ আহম্মেদ

মিরপুর-৬, ঢাকা

সঙ্ঘাত এ দেশের রাজনীতির বিশেষ দিক যার শুরু স্বাধীনতার পর থেকেই। দেশে নির্বাচনী সঙ্ঘাত দিন দিন বেড়ে চলেছে। ব্যক্তিকেন্দ্রিক নির্বাচনে জয়-পরাজয় একমাত্র বিষয় হয়ে দাঁড়ায় যা বৈরী সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে। বিদ্যমান ব্যবস্থায় পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ নয়, দুর্নীতিপরায়ণ আমলা-ব্যবসায়ীরা টাকার জোরে দলের নমিনেশন পেয়ে যান এবং সংসদ সদস্য হয়ে যান। জনগণের মতামতের প্রকৃত প্রতিফলনে সংসদ ও সরকার গঠনে নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

অমিত বণিক

উত্তরা ,ঢাকা

বহু দেশ আছে যেখানে আইনের শাসন দুর্বল, আর সেই প্রশাসনিক দুর্বলতাই হলো সেই দেশগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের ‘সুষ্ঠু ও অবাধ’ ভোট না হতে পারার সাধারণ কারণ। বাংলাদেশেও এমন অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচন নিয়ে। যেসব দেশে সুষ্ঠু ও অবাধ ভোটের ঐতিহ্য রয়েছে সেখানেও নির্বাচনী জালিয়াতির মাত্রা ন্যূনতম করে আনা একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা বাংলাদেশেরও অনুসরণ করা উচিত বলে মনে করি।

সাদিয়া সুলতানা মাহি

জাবি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সাভার

নির্বাচন ব্যবস্থা দিন দিন উন্নত হলেও নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আগ্রহ দিন দিন কমে যাচ্ছে। নির্বাচন ব্যবস্থা আরো উন্নত করে ঘরে বসেই অনলাইনে যার যার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরের এন্ট্রির মাধ্যমে নির্বাচনে ভোট নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে না অথবা বোঝে না, তাদের জন্য পাড়ায় বা মহল্লায় অনলাইন ভোটের ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে নির্বাচনে ভোটের হার বৃদ্ধি পাবে এবং জাল ভোটের সিস্টেম বন্ধ হবে।

কামাল হোসাইন

জগন্ননাথদী, মধুখালী, ফরিদপুর

নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা তো আগে থেকেই অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। পুরনোদের আবার নতুন অভিজ্ঞতার কী প্রয়োজন? তাদের শুধু দেশের মানুষের চাহিদা ও গণতন্ত্রের দাবি অনুধাবনের জ্ঞান ও অনুভূতি দরকার।

মো. আমিনুল ইসলাম

নকলা, শেরপুর

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচন একটা পলিসি মাত্র। এই পলিসি ব্যবহারেও বাংলাদেশের মানুষ বহুবার ভুল করেছে। জনগণ যে সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারে এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যাবে না। তারপরও গণতন্ত্র রাষ্ট্র নির্বাচনের গীবত্ গায়, নির্বাচনের দোহাই দেয়। জনগণ ইচ্ছে অনুযায়ী ভোট দিতে আসবে। ইচ্ছে না হলে আসবে না। এইটা জনগণের নিজস্ব বিষয়। নির্বাচন নিয়ে এতোটা টানাটানির কিছু নেই । দেশের ভবিষ্যত্ চিন্তাটা জরুরি। এই সরকার নির্বাচনকে একটা অস্থির অবস্থা থেকে একটা স্থিতিশীল অবস্থায় এনেছে। এটা নির্বাচন পদ্ধতির উন্নত অভিজ্ঞতারই সংস্করণ। এইটা অব্যাহত থাকলে নির্বাচন নিয়ে জনগণের মাঝেও চাপ কমবে।

মির্জা আবু হেনা কায়সার

কবি, অভিনয়শিল্পী, উত্তরা, ঢাকা

নির্বাচনী ব্যবস্থা হলো সাংবিধানিক নিয়ম অনুসরণ করে জনগণের মতামত জানাবার ব্যবস্থা। জাতীয় নির্বাচনের পর কয়েক ধাপে উপজেলা নির্বাচন অনুুুষ্ঠিত হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের অভিজ্ঞতাও বেড়েছে। তবে নির্বাচনের ফলাফলে কালো টাকা ও পেশীশক্তির প্রভাব থাকে। এই সকল কার্যক্রমের হয়নি কোনো পরিবর্তন। যার ফলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের অভিজ্ঞতা বাড়লেও উন্নত হচ্ছে না নির্বাচন ব্যবস্থার।

সাবরিনা সুলতানা মিশু

ন্যাশনাল কলেজ অব হোম ইকোনমিক্স, ঢাবি

জাতীয় নির্বাচনের পর কয়েক ধাপে উপজেলা নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। বেড়েছে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের অভিজ্ঞতা। সুতরাং আমাদের প্রত্যাশা, নির্বাচসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের অভিজ্ঞতার আলোকে এ ব্যাপারে আরো তত্পর ও সজাগ হওয়া।

আইরিন সুলতানা মনজু

ধুপপুল, চট্টগ্রাম