সবাইকে কাঁদিয়ে অকালেই চলে গেলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নির্বাহী প্রযোজক(চলতি দায়িত্ব) হারুন অর রশিদ (৫৬)। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৫ টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এর আগে শনিবার সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।
বিটিভি সূত্রে জানা যায়, হারুন-অর-রশিদ শনিবার দুপুরে তার ব্যক্তিগত গাড়ি মেরামতের জন্য রাজধানীর আগারগাঁওয়ে একটি গ্যারেজে যান। গাড়িটি মেরামতের সময় তিনি গাড়ির পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় রাস্তা দিয়ে চলাচলরত একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে পেছনের দিক থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলে তার বাম পা দুমড়ে মুচড়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে জাতীয় পঙ্গু হাসপাতালে নেয়া হয়। পরবর্তীতে রাতেই বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে তাকে শ্যামলীর ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা রাতেই তার বাম পা হাঁটুর উপর পর্যন্ত কেটে ফেলেন। পরবর্তীতে তার জ্ঞান ফিরে আসলেও নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। সর্বশেষ মঙ্গলবার সোয়া ৫টার দিকে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রীসহ দুই সন্তান রেখে গেছেন।
হারুন অর রশীদ ১৯৮৮ সালে প্রযোজনা সহযোগী হিসেবে বাংলাদেশ টেলিভিশনে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী প্রযোজক(চলতি দায়িত্ব) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মজীবনে তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধ’ ‘মুক্তিযুদ্ধে নারী’, পল্লীগীতি অনুষ্ঠান ‘হিজল তমাল’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের বিভিন্ন নাটকসহ বিখ্যাত ব্যক্তিদের নাটকের প্রযোজনা করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তার প্রযোজনায় সর্বশেষ নাটক ‘একটি রাস্তার নামকরণ’।
জানাযা ও দাফন: বিটিভি সূত্রে জানা যায়, হারুন অর রশিদের প্রথম নামাজের জানাযা মঙ্গলবার রাতে বিটিভির প্রধান কার্যালয়ের সামনে এবং ২য় জানাযা শেরেবাংলা নগর মসজিদের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী তাকে রাতেই নিজ বাস ভবনের পাশে আগারগাঁও গোরস্তানে দাফন করা হয়।
পরিবার ও বিটিভিতে শোকের ছায়া: হারুন অর রশিদের মৃত্যুতে তার পরিবার এবং কর্মস্থল বাংলাদেশ টেলিভিশনের শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার এই মৃত্যুতে বিটিভির মহাপরিচালক এস.এম হারুন-অর-রশীদ, উপ-মহাপরিচালক(অনুষ্ঠান) সুরথ কুমার সরকার, বিটিভি ঢাকা কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার মো. মাছুদুল হক ও চট্রগ্রাম কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার মনোজ সেনগুপ্তসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একই সাথে তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
ইত্তেফাক/আনিসুর
