আগামী অক্টোবর মাসেই আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সব ইউনিটের কাউন্সিল শেষ করতে চায় দলটি। সম্মেলন সামনে রেখে সারাদেশে সংগঠন শক্তিশালী করতে সাত মাসের কর্মসূচি হাতে নিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। আজ শুক্রবার বিকাল ৫টায় গণভবনে অনুষ্ঠিতব্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এসব কর্মসূচি চূড়ান্ত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ ইত্তেফাককে জানান, বৈঠকের এজেন্ডাগুলো হলো জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি, মুজিব বর্ষ পালনে সাংগঠনিক কর্মসূচি, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের কর্মসূচি, বঙ্গবন্ধুর পুত্র শেখ জামালের জন্মদিন, মহান মে দিবস, শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের কর্মসূচি গ্রহণসহ সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিষয়।
জানা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই তৃণমূলের সব ইউনিটের সম্মেলন সম্পন্ন করতে আট বিভাগের জন্য আটটি সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়েছে। চলতি মাস থেকেই এসব টিম সারাদেশে সাংগঠনিক সফর শুরু করবে। টিমগুলো তৃণমূল পর্যায়ের দলীয় সম্মেলন ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে তদারকি করবে। প্রতিটি জেলা, মহানগর ও উপজেলায় কর্মীসভা এবং বর্ধিতসভা করবে। এরপরই শুরু হবে সম্মেলন প্রক্রিয়া। প্রয়োজনীয় সব ইউনিটে হবে নতুন কমিটি। নতুন আঙ্গিকে ঢেলে সাজানো হবে তৃণমূলকে। সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে ত্যাগী, নির্যাতিত ও পরীক্ষিতদের আনা হবে নেতৃত্বে। যারা বাদ পড়বেন বয়সের ক্রমানুসারে তাদের রাখা হবে স্ব স্ব জেলা-উপজেলায় উপদেষ্টা পরিষদে। নতুন নেতৃত্বকে সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়াই হবে তাদের কাজ।
একই সঙ্গে সম্মেলন করা হবে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোরও। আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা বলেন, গত ২৯ মার্চ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের সভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন কমিটির সম্মেলনও দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন তিনি। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে নতুন আঙ্গিকে সাজানো হবে। পুরনো বা মেয়াদোত্তীর্ণ কোনো কমিটিই বহাল থাকবে না। নবীনদের দিয়ে দল সাজানো হবে। প্রবীণদেরও দলের কাজে লাগানো হবে। জাতীয় সম্মেলনে বড় ধরনের চমক থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য জানান, জাতীয় সম্মেলন থেকে শুরু করে তৃণমূলের প্রতিটি পর্যায়ে নেতৃত্বে ব্যাপক পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অভিজ্ঞদের সঙ্গে ব্যাপকহারে নবীনদের দায়িত্বে আনা হবে। প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর দলের ২০তম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।
